নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিন জিয়াউল আহসানকে কড়া পাহারায় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউশন তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর এবং তদন্তের জন্য দুই মাস সময় দেওয়ার আবেদন জানায়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন- প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী ও তাসমিরুল ইসলাম।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ফ্যাসিস্ট রেজিমে গুম হয়েছিলেন এবং তাকে ভারতে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছি এবং সেই মর্মে তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আসামি জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে আজ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।’
এর আগে গত ১০ আগস্ট জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়েছিল প্রসিকিউশন। এর ভিত্তিতেই আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জিয়াউল আহসান মানবতাবিরোধী অন্য একাধিক মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার আছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ গত বছরের ৩ জুন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত অন্য পাঁচজন হলেন- সাবেক সেনা কর্মকর্তাজিয়াউল আহসান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ।
অন্যদিকে তখন বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। ওই সময় সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্ধার করে। ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন আহমদ শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।
জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদকে দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস দেয় ভারত। ওই বছরের ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।
আরএনবি/এমআই