নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হবে কি না তা জানা যাবে আজ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন আট জন। তারা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
পলাতক রয়েছেন— ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডি এম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।
এর আগে, ৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়। প্রসিকিউশন থেকে ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হলেও ডিসচার্জ বা অব্যাহতি চেয়েছিলেন আসামিদের আইনজীবীরা। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
২১ জুলাই প্রসিকিউশনের শুনানিতে এই মামলায় আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। একইসঙ্গে ঘটনার বীভৎসতা ও মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাত জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চার জনকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। দুটি অভিযোগেই এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
এফএ