নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি আপাতত দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে নয়টি মামলার সবকটিতেই জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এবং সঙ্গে ছিলেন মোনায়েম নবী শাহীন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ছিদ্দিকী ও মো. মোখলেছুর রহমান।
আদেশের পর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করলে আজ চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের জামিন বহাল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৯টি মামলা রয়েছে। ৯টি মামলার সবকটিতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। ফলে যেকোনো সময় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় ১০ আগস্ট খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পৃথক আট মামলায় জামিনের পর বনানী থানার মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার করতে গত ২ জুলাই আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় ৮ জুলাই খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত ২৭ জুলাই এই মামলায় নিম্ন আদালতে খায়রুল হকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন চেয়ে তিনি আবেদন করেন। আবেদনটির ওপরে শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।
আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। ৯টিতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। ৯টির মধ্যে বনানী থানার মামলায় জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত আর কোনো বাধা নেই।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
পৃথক আট মামলায় জামিনের পর বনানী থানার মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গত ২ জুলাই আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় ৮ জুলাই খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়।
খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্যমতে, এর আগে পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়ায় বৈধতা নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন ৯ আগস্ট নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ শুধু তার ক্ষেত্রে বহাল থাকার কথা জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আরএনবি/এফএ