সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার (৯ আগস্ট) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এর ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী মাহবুব শফিক ও মোনায়েম নবী শাহীন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
এর আগে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারপতি খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দিয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে রোববার তা নিষ্পত্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, বর্তমানে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। তখন আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সব মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পাঁচটি মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা ও রায় জালিয়াতির মামলাসহ পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রেখেছিল আপিল বিভাগ।
তারও আগে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট চার মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় তাকে জামিন দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।
পরবর্তী সময়ে যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ হত্যা এবং আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং গত ১২ মে ওই দুই মামলায় জামিন পান।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
আরএনবি/জেবি




