নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের জন্য কেন জরিপ অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত আগামী ২০২৭ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যেই কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লেকের একটি বড় অংশ অবৈধ দখলে চলে গেছে এবং ব্যাপক হারে দূষণ করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও দখলদাররা জমির মালিকানা দাবি করে আইনি জটিলতা তৈরি করে। ফলে প্রকৃত দখলদার চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই সিএস বা আরএস ম্যাপ অনুযায়ী জরিপ করে প্রকৃত সীমানা ও দখলদারদের তালিকা তৈরি করা জরুরি।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রকৃত সীমানা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক তখন জরিপ অধিদফতরের মাধ্যমে লেকের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। সেই প্রেক্ষিতে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করলে আদালত আজ এই আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিপ শেষে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে।
আরএনবি/এফএ