শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি টিকবে না: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি টিকবে না: হাইকোর্ট

হিন্দু দায়ভাগা (Dayabhaga) আইন অনুযায়ী ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন ‘রিভার্সনার’ বা পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো স্বত্ব দাবি করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন সেই সম্পত্তিতে বোনের কোনো আইনগত অধিকার বা স্বার্থ থাকে না। ফলে বিধবা কর্তৃক সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলারও কোনো সুযোগ বোনের নেই।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এক জমি সংক্রান্ত দেওয়ানী রিভিশন মামলায় জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। বুধবার (১২ আগস্ট) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দায়ভাগা আইন অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবনস্বত্বে সম্পত্তির মালিক হন। যদিও এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিধবার ক্ষমতা সীমিত, তবে সেই হস্তান্তরের আইনি বৈধতা নিয়ে কেবল তিনিই চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। যিনি বিধবার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার অধিকারী।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন, যে ব্যক্তির সম্পত্তিতে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো আইনগত স্বার্থ নেই, তিনি ওই সম্পত্তি হস্তান্তরকে ‘আইনগত প্রয়োজন’ ছিল না- এমন যুক্তি দেখিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। হিন্দু আইনে ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের এই ধরনের কোনো অধিকার স্বীকৃত নয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে তার ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১.৩৫ একর জমি ক্রয় করেন। পিতার জীবদ্দশাতেই সতীশ চন্দ্র মারা যান এবং ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাসও মারা যান। সতীশ চন্দ্রের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সাবিত্রী বালা দাস ওই সম্পত্তি ভোগদখল করছিলেন।

১৯৯৬ সালে সাবিত্রী বালা সেই জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর ১৯৯৮ সালে সতীশের বোন শৌল বালা দাস পটিয়া আদালতে এই হস্তান্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তার দাবি ছিল, ভাইয়ের সম্পত্তিতে তিনি পরবর্তী উত্তরাধিকারী এবং ভাইয়ের স্ত্রী সাবিত্রী বালা কর্তৃক করা বিক্রয় দলিলটি জাল ও আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া করা হয়েছে।

পরে ২০০০ সালের ২২ জুন পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত শৌল বালার মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর তিনি জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ২০০৭ সালে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। পরে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানী রিভিশন আবেদন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে জারি করা রুলটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন।

আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত। বিবাদী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের ফলে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তিতে বোনের অধিকার ও রিভার্সনারি রাইট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতা দূর হয়েছে।

তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা যাবে বলেও আইনজীবরা জানিয়েছেন।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর