নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য যাতে প্রচার না হয়, আপনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে একটা।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আপনারা প্রচার করবেন না। বাকি বক্তব্য প্রচার করতে আইনগত বাধা কোথায়? কিন্তু আদৌ ওনার বক্তব্য পাই কি না...দেখেন না...পাঁচ তারিখ আসুক না...আমরা ৬টা-৭টা পর্যন্ত ওয়েট করি না...দেখি না! আমার কাছে তো মনে হয়, ‘সব ঝুট হ্যায়’।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন অডিও বার্তা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ৫ আগস্ট নিয়ে তার সম্ভাব্য বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘উনার (শেখ হাসিনা) বিষয়ে আমাদের কোর্টের একটি কন্টেম্পট (আদালত অবমাননা) রুল ও অর্ডার ছিল যে, তিনি যাতে বিদ্বেষমূলক কোনো কথা না বলেন। বিদ্বেষমূলক কথা প্রচলিত আইনেও বলা যায় না। যে কথায় ট্রাইব্যুনালের ইমেজ সংকটে পড়ে বা আদালত অবমাননা হয়, সেই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনেও নিষিদ্ধ।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ‘উনাকে বক্তব্য দিতে বারণ করা হয়নি, শুধু বলা হয়েছে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না দিতে। যদি উনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, সেটির ওপর আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সাংবাদিকরা কোনটা প্রচার করবেন আর কোনটা করবেন না, সেটি বক্তব্যের ধরন দেখে নির্ণয় করতে হবে।’
এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তারেক রহমানের ছবি ও বক্তব্য প্রচারে আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গটি সাংবাদিকরা তুললে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ওই প্রসঙ্গের দরকার নেই, ওটা আলাদা ইস্যু। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে শুধু বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করতে আপনাদের ওপর নির্দেশনা আছে।’
তদন্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া বা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, ‘একজন ইনভেস্টিগেশন অফিসার (তদন্ত কর্মকর্তা) স্বাধীনভাবে কাজ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই একজনকে আসামি করা বা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে ব্যক্তিগত পারসেপশন বা সন্দেহের কোনো স্থান নেই।’
সব মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল টেনে আনতে চায় না উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আর কোনটি সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ—এই বিভাজন করাটা বেশ কঠিন এবং এর জন্য প্রচুর পড়াশোনার প্রয়োজন হয়। যে মামলার বিচার নিম্ন আদালতে হওয়া উচিত, তা আমরা এখানে আনতে চাই না। আবার যেটির বিচার এখানে হওয়া প্রয়োজন, সেটি অন্য কোথাও যাক- তাও আমরা চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বেশ কিছু মামলা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য তদন্ত সংস্থা তদন্ত শেষ করে ফেলেছে বা অন্য আদালতে বিচার চলছে- এমন মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, উনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা সরকারের কাজ। তিনি কোথায় কী বললেন বা কী করলেন- সেটি আমাদের এখতিয়ারের বাইরের বিষয়। আমাদের দরকার উনাকে আইনের মুখোমুখি করা।’
আরএনবি/এএম