নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ভার্চুয়াল ভাষণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।
মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা (ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া) দ্বারা আয়োজিত হচ্ছে। এই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বা অন্য কেউ যে মতামত প্রকাশ করবেন, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না’।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগের পর আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) প্রথমবার ভারতে বসে শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেবেন বলে সম্প্রতি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসিএসএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের অনান্য নেতাদের ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ভারতে বসে হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারে দেশটিকে সতর্ক করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
তার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিফিংয়ে একই কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এসময় তিনি হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ঘোষণা নিয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশ জানতে চায় বলেও জানান।
একইসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা একটি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি৷ সেই অগ্রযাত্রায় কোনো ব্যাঘাত ঘটুক তা আমরা চাই না৷ এ বিষয়ে ভারতকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে৷’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হোক৷ ভারত আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, পলাতক ব্যক্তিরা তাদের ভূখণ্ড থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হোক তা তারা চায় না’৷
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




