Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরতেই পঞ্চদশ সংশোধনী: অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের মানুষকে আবারও একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতেই সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।

বুধবার (৮ জুলাই) পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হবে। আজ শুনানির তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।

পঞ্চদশ সংশোধনীকে একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি অপপ্রয়াস আখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি সেটি হচ্ছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কমপক্ষে দুটি। কিন্তু সেই পথযাত্রাকে রোধ করে আবারও একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে নেওয়ার জন্যেই মূলত পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল।’

গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর এই সংশোধনীর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সাধন করা হয়েছিল। এবং এই পরিবর্তনটার সঙ্গে মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আগামী দিনের অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।’

আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষের যুক্তি তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী বিভাগ, পার্লামেন্ট এবং বিচার বিভাগ স্বতন্ত্রভাবে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু কেউ কারও কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনি যে ব্যাখ্যা, কাঠামো, সেই কাঠামোর মধ্য থেকে ইতোপূর্বের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিপন্থী কোনো যদি সংশোধনী হয়। তাহলে বাতিল করার যে বিধান এবং যে রায় ইতোপূর্বে প্রচারিত হয়েছে, আমরা সেটি বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে, সংবিধান-বহির্ভূত যদি কোনো প্রভিশন পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে থেকে থাকে, সেটিও পূর্বের রায়ের নজিরের আলোকে বাতিল চেয়েছি।’

এর আগে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ কমপক্ষে চারটি বিষয় বাতিল করেছিল এবং বাকি বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

বাকি বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাড়তে হবে বলে কোনো কথা বলিনি। আমরা হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণটা সম্পর্কে বলেছি। হাইকোর্টের আর্গুমেন্টের মধ্যে যে দুটি প্রিন্সিপালের উপরে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, আমরা বললাম ওই প্রিন্সিপালের উপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের যদি মনে হয় যে সংবিধানের আরও কিছু বিধান সংবিধানে থাকা উচিত না, তাহলে আদালত যেন সেই ক্ষেত্রে তার রায় প্রদান করেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বের সংবিধানের কী অবস্থা ছিল এবং পরের কী অবস্থা, আমরা প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিক্যালি আদালতকে দেখিয়েছি।’

পুরো সংশোধনী বাতিল হলে আবারও ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়। সুতরাং কোনো একদলীয় স্বৈরশাসন বাংলাদেশের কোনো মানুষ প্রত্যাশা করে না।’

বর্তমান সংসদকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ (ভেরি ভাইব্রেন্ট) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টে সরকার ও বিরোধী দলের নানা রকম বিতর্ক বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বেলিত করছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা চলছে।’

বর্তমান সংসদে থাকা সদস্যদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিক্ত অতীত পার করে আজকে এই পর্যায়ে এসেছে, তারাও নিশ্চয়ই এই জাতিকে, বাংলাদেশের মানুষকে সেই পুরোনো কালো অন্ধকার যুগের দিকে ধাবিত করবেন না।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ের যে পর্যবেক্ষণ হবে, রায়ের যে অপারেটিং পার্ট হবে, তার উপরে সংসদ নিশ্চয়ই সে অনুযায়ী পরবর্তী সংবিধান সংশোধনী ও প্রয়োজনীয় সংযোজনের ক্ষেত্রে কাজ করবে।’

আরএনবি/এমআই