নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক রেলমন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে এ মামলায় জবানবন্দি দেন তারা।
এসময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি এ মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে অব্যাহতির দাবি জানান আরিফুল, গউছ ও বাবর।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, ৩৪২ ধারায় আদালতে মামলার আসামিদের পরীক্ষা করা হয়। এসময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গউছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। পরে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। মামলায় আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীই অভিযোগ করেননি। শুরুতে এজাহারেও আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া শেষ করেছি। আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি। ন্যায়বিচার হলে আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হবো।’
আরও পড়ুন: ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভার জামিন
একইভাবে এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট দাবি করেন সরকারদলীয় হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য এ মামলায় সরাসরি আসামি করা হয়েছে। প্রথম এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে আমাদের যুক্ত করা হয়। এটি সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা।’

জি কে গউছ আরও বলেন, ‘আমরা আদালতে আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই।’
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ এসব মামলার পেছনে একই উদ্দেশ্য ও কারণ কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের আমলে এসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা মানুষ বুঝতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের ধ্বংস করার জন্যই এসব মামলা করা হয়েছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যও এতে রয়েছে।’
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত চত্বরে এসে হাজির হন। এসময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে অংশ নেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনি এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। সেদিন গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পরে এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এএইচ