নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
চতুর্থ দফায় এবার হত্যা মামলায় রিমান্ডে পাঠানো হলো আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। জুলাই বিপ্লব চলাকালীন মিরপুর-১০ নম্বরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে এই রিমান্ডের আদেশ আসে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম।
দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।’
গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয় তাকে।
মঙ্গলবার তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান। এরপর তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। শুনানিতে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয় মাসুদ চৌধুরীকে। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘মামলায় সম্পৃক্ত থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি ফ্যাসিস্টের একজন সহযোগী। তাকে গ্রেফতার দেখানো হোক।’
এ সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না। তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চান আদালত। সালাম দিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পর পর ১৪ দিন রিমান্ডে ছিলাম। এটা এমনই মামলা, যে মামলায় ১০৩ জনের মধ্যে যারা জামিন চাইছে, জামিন পেয়েছে।’
এ সময় বিচারক তাকে বলেন, ‘এটা এই মামলা (সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলা) না। এটা হত্যা মামলা।’ তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, ‘মামলায় আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততা নাই।’ পরে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে নেওয়া হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘কোনখানের মামলা, মিরপুরের কিছুই জানি না। টানা ১৪ দিন রিমান্ডে ছিলাম। বিচারকরা আল্লাহর প্রতিনিধি, এই বিচার করতেছে।’
এসময় অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রিমান্ড চেয়েছেন?। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ’। কতদিন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সাত দিন।’ তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৬ দিন দিয়ে দেবে’।
এসময় বিচারক এজলাসে ছিলেন না। এর কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে ওঠেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এএইচ