নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের আলোচিত সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের ঘনিষ্ঠ চার সহযোগীসহ নয়জনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: আমির হোসেন আমুর ৮ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আসামিরা হলেন- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল ইসলাম, কোম্পানি সচিব রেজাউল ইসলাম, হেড অব রিকোভারী আবু মো. আল মামুন, ইডিসিএলের এমডি মো. আ. সামাদ মৃধা এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আবু, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, সন্তান কাজী আহসান উল্লাহ শিবলী ও কাজী আমরীন সুলতানা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
পি কে হালদারের চার সহযোগীর আবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত কুমার হালদার এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং এর অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট; তারা দেশত্যাগ করতে পারেন- এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।
ইডিসিএলের এমডির আবেদনে বলা হয়েছে, মো. আ. সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানকালে ওপেন সোর্স এবং গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মো. আ. সামাদ মৃধার বিভিন্ন ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য করে অর্থ আত্মসাৎ পূর্বক বিদেশ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধায়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সাবেক পিপির আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ আবুর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালত ও জজ কোর্টের বিচারকদের যোগসাজশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন ভিআইপি আসামিদের জামিন, খালাস, সাজা কমানো ও সাজা মওকুফ করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনপূর্বক বিদেশে অর্থ পাচারসহ নিজ নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আব্দুল্লাহ আবু ও অন্যান্য ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। সুতরাং সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
দুদকের করা এই তিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক পি কে হালদারের চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ মোট ৯ আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
এএইচ