নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
একইদিনে একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে গত ১১ ডিসেম্বর একইদিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, রিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের কথা সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই। তাই এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি না হয়েও বিভিন্ন ঘটনায় জনস্বার্থের নামে রিট করে দেশে আলোচিত-সমালোচিত আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। বারবার মামলা করে তিনি একাধিকবার আদালতের বিরক্তির কারণও হয়েছেন। এসব মামলার জেরে তাকে জরিমানা ও ভর্ৎসনাও পেতে হয়েছে।
‘জনস্বার্থে রিটকারী’ হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক রিট করেছেন। তবে এর বেশিরভাগই ছিল বিতর্কিত। ফলে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া তার করা জনস্বার্থের মামলায় আদেশ পাননি তিনি। কিছু কিছু মামলায় আদালত বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এবং জরিমানাও করেছেন।
বিচার বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তাকে তিন মাস হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আদালত তাকে সতর্কও করেছেন।
করোনাকালীন রাজধানীর একটি সড়কে ডাক্তার, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় ইউনুছ আলী আকন্দ রিট দায়ের করলে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণে-অকারণে রিট করার প্রবণতা নিয়ে তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, ‘মিস্টার আকন্দ, শখের বশে রিট করবেন না। এ ধরনের রিট করলে খারিজ করে জরিমানা করা হবে। জরিমানা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।’
ইউনুছ আলী আকন্দ ২০১২ সাল থেকে জনস্বার্থে মামলা করে আসছেন। ২০১৪ সালে আদালতের আদেশ বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে হাইকোর্ট তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এত কিছুর পরও জনস্বার্থে মামলা করা থেকে বিরত থাকেননি আলোচিত এই আইনজীবী।
২০২০ সালের ১২ অক্টোবর দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় তাকে গুরুতর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন আপিল বিভাগ। ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা নিয়ে কটাক্ষ করায় তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের জন্য তার আইনপেশা থেকে বরখাস্তের আদেশ দেন আদালত। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
এফএ