নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম
অর্ডার অনুযায়ী সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ না করায় অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার কাছে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে অভিযোগ পাঠিয়েছেন একজন গ্রাহক।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগটি পাঠান ভুক্তভোগী জিয়াউল ইসলাম। তিনি একটি দৈনিকে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত।
রোববার (৯ জানুয়ারি) অভিযোগকারীর আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বিষয়টি ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী জিয়াউল ইসলাম, পিতা: মৃত, জহুরুল ইসলাম, মাতা: মৃত, আরা নেওয়াজ বেগম। পেশা: ফটোসাংবাদিক দৈনিক প্রথম আলো, এই মর্মে অভিযোগ করছি যে, গত ২৯–০১–২৪ ইং তারিখে ছেলেকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ‘ফুডপান্ডায় ১০০০/–টাকার পিৎজা অর্ডার করি। অর্ডার করার পরও ফুডপান্ডা যথা সময়ে পিৎজা ডেলিভারি দেননি। তারপর ওইদিন রাতে তাদের ওয়েবসাইটে অভিযোগ করি, সেখানে Processing Going On লেখা দেখা যায়। পরদিন সকালে আবারও তাদের ওয়েবসাইটে অভিযোগ তখনও প্রসেসিং চলমান আছে দেখানো হয়। এরপর তাদের সিইওকে ফোনে অভিযোগ করি। তিনি বলেন, বিষয়টি দেখছি। যে মোবাইল নম্বর থেকে ফুডপান্ডার অর্ডার করেছি ওই নাম্বারটি আমার অজান্তে এবং আমার বিনা অনুমতিতে ফুডপান্ডার ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ হতে আজ পর্যন্ত ফুডপান্ডার সেবা নিয়ে যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন গ্রাহকরা আমার নাম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হয়রানির ও আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছি।
ফুডপান্ডা দ্বারা প্রতারিত গ্রাহকরা আমার মোবাইল নম্বরটি ফুডপান্ডার নম্বর জেনে আমাকে রাত-দিন মানহানিকর, কটূক্তি করে চলেছেন। বিষয়টি ফুডপান্ডার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমি অভিযোগকারী জিয়াউল ইসলাম দৈনিক প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক, বর্তমানে প্রথম আলো ফটো আর্কাইভের সমন্বকারী। ফটোসাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ২০০৪ সালের একুশে আগস্টে গ্রেনেড হামলার শিকার হই এবং মৃত্যু থেকে বেঁচে যাই। এবং গ্রেনেড হামলার সকল স্থিরচিত্র আমার দ্বারা তোলা, যার দরুণ আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাই। আমার সেই ইমেজকে ব্যবহার করে ফুডপান্ডা আমার অজান্তে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে।
পরবর্তী সময়ে আইটি এক্সপার্ট দ্বারা জানতে পাই যে, আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারটি ফুডপান্ডার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে আসছে। এর ফলে আমি সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত এবং মানসিকভাবে ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছি। যার আর্থিক মূল্য অপরিসীম, যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা। উল্লিখিত কারণাধীন ও অবস্থাধীনে এই অভিযোগ দায়ের করছি।
এআইএম/জেবি