লাইফস্টাইল ডেস্ক
২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শুধু খাদ্য আর আবাসনের জন্যই নয়, বরং মানসিকভাবেও মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে নূন্যতম ২০ মিনিট সময় কাটালে তা মানবশরীরে অবিশ্বাস্য ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। উদ্যান বা সবুজ বনে কিছুক্ষণ হাঁটাহাটি করলে শুধু মানসিক শান্তিই পাওয়া যায় না বরং তা শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারও বয়ে আনে।

স্বয়ংক্রিয় শিথিলতা: যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে আমরা যখন সবুজ গাছপালা ও পাখির কলতানে হারিয়ে যাই তখন আমাদের শরীরের স্নায়ুতন্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃতির সংকেতে সাড়া দেয়। এতে আমাদের শরীরে রক্তচাপ কমে হৃদস্পন্দন ধীর হয়। আমরা প্রশান্তি অনুভব করি। বিজ্ঞানীরা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সবুজ পরিবেশে কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর চালানো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে মোট ১২০ মিনিট সময় সবুজ পরিবেশে কাটিয়েছেন তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অন্যদের চেয়ে সুস্থ।

হরমোনের ভারসাম্য: সবুজ প্রকৃতিতে সময় কাটালে মানব শরীরের এন্ডোক্রাইন সিস্টেম চালু হয় এবং কর্টিসল ও অ্যাডরেনালিনের মতো মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এমনকি, পাইন গাছের সুবাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলেও দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরাবানা চ্যাম্পেইন কাউন্টিতে অবস্থিত ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মিং কুও বিবিসিকে বলেন, ‘তিন দিনের ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি যদি প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো যায় তবে তা মানবদেহের ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এমনকি সেই প্রভাব এক মাস পরও সাধারণ অবস্থার তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি থেকে যেতে পারে।’

ঘ্রাণের শক্তিশালী প্রভাব: প্রকৃতির মাঝে যে ঘ্রাণ পাওয়া যায় সেটি কোনো বস্তু দেখা বা কোনো শব্দ শোনার মতোই শক্তিশালী। গাছ ও মাটির সুবাস আমাদের রক্তপ্রবাহকে প্রভাবিত করে।
আরও পড়ুন: অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম থেকে উঠবেন যেভাবে
এ বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য বিষয়ের অধ্যাপক ব্যারোনেস ক্যাথি উইলিস বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘হোয়াটস আপ ডকস?’ পডকাস্টে বলেন, গাছ ও মাটির সুগন্ধ উদ্ভিদের নির্গত জৈব যৌগে ভরপুর এবং ‘আপনি যখন এগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন তখন কিছু অণু রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে।’
জীববিজ্ঞানীদের মতে, পাইন বনের ঘ্রাণ আমাদের অস্থির মনকে মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে শান্ত করতে পারে।
আরও পড়ুন: রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন? জানুন দূর করার উপায়
উপকারী ব্যাকটেরিয়া: সব ব্যাকটেরিয়া মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। মাটি ও উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। সেগুলো আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া উদ্ভিদের মধ্যে বিদ্যমান রাসায়নিক উপাদানও রোগবালাই মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে।

উইলিসের মতে, ‘এগুলো ঠিক সেই ধরনের ভালো ব্যাকটেরিয়া যেগুলো পেতে আমরা প্রোবায়োটিক বা পানীয়ের পেছনে অর্থ খরচ করি।’
ঘরে বসেই প্রকৃতি উপভোগ: সবুজ প্রকৃতিতে সময় কাটাতে সবসময় যে বনেই যেতে হবে এমন নয়। বনে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরের ভেতরেই সে আয়োজন করা যেতে পারে। যেমন, ঘরের মধ্যে তাজা ফুল ও ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা এবং অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার স্প্রে ব্যবহার করা।

এসবের ব্যবস্থা যদি না ও করা যায় তবে ল্যাপটপে প্রকৃতির ছবি বা স্ক্রিনসেভার ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাপটপে প্রকৃতির ছবি দেখা অথবা কেবল কোনো সবুজ জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকা একই ধরনের মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে এবং মানসিক চাপ কমাতে পারে।
প্রফেসর মিং কুওর মতে, ‘প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশই (আমাদের) সাহায্য করতে পারে।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি
এএ