বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন? জানুন দূর করার উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন? জানুন দূর করার উপায়
রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন?
সম্পর্কে সবকিছুই ঠিকঠাক। তবুও মনের গহীনে কি যে এক ঝড় বয়ে যায়। অজানা এক দুশ্চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়ে হৃদয়। কালো মেঘে ঢেকে যায় সব। হাজারো আতঙ্ক বাসা বুনে মনে। যেন- এই বুঝি সে অবহেলা করল, এই যেন তার আচরণে প্রকাশ পেল লাল কোনো সংকেত যা মুহূর্তেই বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবে। অপরিচিত হয়ে যাবে চেনা মানুষটা। এমন অদ্ভুত চিন্তা কি আপনার মাথায়ও ঘুরপাক খায়? কেন এমন হয়- চলুন জেনে নেওয়া যাক।

রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি

সম্পর্ক নিয়ে এ ধরনের অনর্থক ভয়কে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি’। যার বাংলা অর্থ হলো ‘সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তা’। বিষয়টি মোটেও হেয়ালিপনা নয়। বরং মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে মানুষের অবচেতন মনের ‘জটিল মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ’ বলেছেন।

images

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল পোর্টাল সেলফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আলোচনা করেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, জোর করে একটি সম্পর্ককে অতিরিক্ত ‘সুরক্ষা’ দিতে চাওয়ার এই প্রবণতা ভালোর চেয়ে বরং ক্ষতিটাই বেশি করে। একে বলে ‘হাইপারভিজিলেন্স’, যা অবচেতনে সঙ্গীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিবাহ ও পারিবারিক থেরাপিস্ট মেলিনা অলডেন এবং লাইফস্টাইল গবেষক জেনা রিউ। তারা এ ধরনের আচেরণের পেছনে ৩টি কারণকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন-

১. অতীতের ট্রমা বা আতঙ্ক

থেরাপিস্ট মেলিনা অলডেন মনে করেন, একজন ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে অতীতে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা থাকলে তার মনে এ ধরনের চিন্তা বেশি আসে। তিনি বলেন, ‘মূলত অতীতে কখনও প্রতারণা, হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা আকস্মিক বিচ্ছেদের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মস্তিস্কের স্নায়ু স্থায়ীভাবে এক ধরনের ‘ডিফেন্স মেকানিজম’ বা প্রতিরক্ষা কবচ তৈরি করে নেয়।
images_(4)

আর এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তির বর্তমান সম্পর্কে। সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত হওয়ার পরও সঙ্গীকে তার মস্তিস্ক প্রাকৃতিকভাবেই বিশ্বাস করতে পারে না। সে সবসময় আবারও প্রতারিত হবে এমন ভয়ে থাকে। যার কারণে সঙ্গীর সাধারণ নীরবতাকেও বড় ধরনের হুমকি মনে করে সে।

২. মানসিক বিপর্যয়

সব মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠন এক নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিকভাবেই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তা প্রবণ হয়। এ ধরনের মানুষের কাছে একটি সাধারণ কৌতুকও বড় বিপর্যয় বা ‘ক্যাটাস্ট্রোফি’ মনে হয়। 

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। সঙ্গীর একটি টেক্সট রিপ্লাইয়ে যদি সামান্য দেরি হয় বা কোনো কারণে যদি তিনি একদিন ফোন করতে না পারেন তবে ব্যক্তি সেটিকে হুমকি হিসেবে নেয়। তার মস্তিস্ক সরাসরি এই সিদ্ধান্তে আসে যে, তার প্রতি সঙ্গীর আকর্ষণ কমে গেছে। আর তার এই ভুল বিশ্বাস দূর করা সে সঙ্গীর জন্য চ্যালেঞ্জিং।
istockphoto-1411407553-612x612
৩. আবেগের ঝুঁকি

কিছু মানুষ সঙ্গীকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেন যে তার মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণও সে মানুষটির হাতে সঁপে দেন। এ ধরনের মানুষ একবার প্রতারিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার কাউকে আর ভরসা করতে পারেন না। তার মনে একটি গোপন ভীতি থেকেই যায় যা সে নীরবে লালন করে। সে ভাবে, ‘যদি আমি নিজেকে আবারও পুরোপুরি সঁপে দিই, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি আঘাত পাবো।’

এই সম্ভাব্য আঘাত থেকে বাঁচতেই মানুষ অজান্তেই সঙ্গীর ওপর অনর্থক সন্দেহ বা নজরদারি শুরু করে। যা সম্পর্কে এক ধরনের কৃত্রিম দেয়াল তৈরি করে এবং একটি সুস্থ সম্পর্কে ছিঁড় ধরায়।

Relationship-Anxiety.png

ভয়কে জয় করার উপায়

মেলিনা অলডেন অতিরিক্ত চিন্তার এই চক্র থেকে বের হয়ে আসার জন্য দুইটি বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দিয়েছেন-

১. প্রমাণের ভিত্তিতে বাস্তবতা পরখ করে দেখা: মনে কোনো অহেতুক চিন্তা এলেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না। নিজেকে বরং প্রশ্ন করতে হবে- ‘সঙ্গী যে আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন এর পক্ষে আমার কাছে এই মুহূর্তে কি কোনো প্রমাণ আছে?’

images_(2)

২. একসঙ্গে সময় কাটান: আমাদের মস্তিস্ক নানা ধরনের কাল্পনিক চিন্তার আঁতুর ঘর। তাই মনকে মনগড়া বা কাল্পনিক সমস্যা তৈরি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। যখনই মাথায় এ ধরনের চিন্তা আসবে তখনই দুজনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন।

সেটি হতে পারে বাইরে গিয়ে শান্ত মনে হাঁটাচলা করা, একসঙ্গে রান্না করা কিংবা ঘরের তাপমাত্রা অনুকূলে রেখে বিছানায় বসে প্রিয় কোনো সিনেমা দেখার মতো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। এ ধরনের কার্যকলাপ মনের অযাচিত ভাবনা দূরে রাখতে সাহায্য করে।
এএ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর