বোরহান উদ্দিন
০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংসদ ছিল না, এখন যেন সংসদ সচল হয়, কার্যকর হয়, সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু যেন হয়, সেই চেষ্টা করবো। এটাই আমার লক্ষ্য।
একাধিকবারের সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনিকে সোমবার (২ মার্চ) সংসদের চিফ হুইপ পদে মনোনীত করে বিএনপি। দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকা মেইলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন নবনিযুক্ত চিফ হুইপ।
চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর একটি অবাধ ও ষুষ্ঠু নির্বাচন জনগণের বিপুল ভোটে ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জনগণ আমাকে জয়ী করেছে। সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবার পর চিফ হুইপের দায়িত্ব পাওয়া সত্যিই আনন্দের। জাতীয় সংসদ গণতন্ত্রের চেতনা, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ মঞ্চ। এই জায়গায় আমাকে চিফ হুইপ নিযুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করছি। তার নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার আমাদের পথচলার প্রেরণা।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে আমার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হবে সংসদীয় কার্যক্রমকে গতিশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ফলপ্রসূ করা। যেন সংসদের প্রতিটি অধিবেশন হয়ে ওঠে গণমানুষের কল্যাণে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দীর্ঘদিন সংসদ কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে বিচ্যুত ছিল। যেখানে বিতর্কের পরিবর্তে একপাক্ষিকতা, জবাবদিহিতার পরিবর্তে নীরবতা এবং জনআকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিকতা স্থান করে নিয়েছিল। সেই বাস্তবতা থেকে আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও জবাবদিহিমূলক সংসদ পুনর্গঠনের প্রত্যয়ে অগ্রসর হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সংসদকে এমন এক কর্মমুখর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, যেখানে প্রতিটি আলোচনা হবে তথ্যভিত্তিক, প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে জনগণের কল্যাণমুখী এবং প্রতিটি আইন হবে সময়োপযোগী ও রাষ্ট্রগঠনে সহায়ক।’
আরও পড়ুন
সংসদের চিফ হুইপ হলেন নুরুল ইসলাম মনি
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সংসদ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে রাষ্ট্র মজবুত হয়। মতভেদ বা মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা হবে যুক্তির, নীতির এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থের ভিত্তিতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং সহমতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার অগ্রাধিকার। কারণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে নিঃশব্দ করা নয়, বরং তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং যুক্তির মাধ্যমে সেরা পথ নির্ধারণ করা। রাষ্ট্রের স্বার্থে, গণমানুষের কল্যাণে আমাদের এই যাত্রা হোক দৃঢ়, সুশৃঙ্খল ও ঐতিহাসিক। হোক একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে সংসদ আবারও হয়ে উঠবে জাতির আস্থার কেন্দ্র।’
সংসদের আসন বণ্টনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমরা দেখা করব, তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। হুইপদের সঙ্গেও বসব, তাদের সঙ্গে আলাপ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবো।’
আগে সংসদের বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি। এবার প্রথমবারের মতো জামায়াত বিরোধী দল হচ্ছে- এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল তো বিরোধী দলই। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটা বিরোধী দল যেমন দরকার, আবার তারা গঠনমূলক আলোচনা করবে তারা, এটাই প্রত্যাশা করি। বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে, দেশকে এগিয়ে নিতে সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা। সংসদে উপস্থিত থেকে সংসদকে প্রাণবন্ত করা। কে কোন দল করে সেটা দেখার বিষয় না, দেখার বিষয় হচ্ছে সত্যিকারে তারা সরকারকে সাহায্য করার জন্য, দেশকে গণতন্ত্রায়ন করার জন্য সহযোগিতা করছে কি না। দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য যারা কাজ করবেন তারাই আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
নুরুল ইসলাম মনি ১৯৫২ সালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মনিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি পাস করেন। পরের বছর ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসিতে ফার্স্ট ক্লাসসহ পাস করেন।
আরও পড়ুন
সংসদের হুইপ হলেন ৬ এমপি
নুরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯০ সালে সংসদ ভেঙে যায়। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম মনি আবারো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তিনি সে নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতিও নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। পরে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিইউ/জেবি