মহিউদ্দিন রাব্বানি
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৩ এএম
২০২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন চলছে প্রচার-প্রচারণা। তাই প্রার্থীদের সময় কাটছে ব্যস্ততায়। ভোর থেকে গভীর রাত, দিনরাত এক করেই ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তারা। ঠিক তেমনভাবেই সময় কাটছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলির। তিনি ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করছেন। ব্যস্ততার মধ্যে তিনি তার নির্বাচনী প্রস্তুতি, পলিসি এবং এলাকার জন্য অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাব্বানি।
ঢাকা মেইল: নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন এগোচ্ছে?
ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি: নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রথমে আমরা ফোকাস করেছি পলিসি ইস্যুতে। আমাদের এলাকার মানুষের চাহিদা এবং সমস্যাগুলো আমরা আগে থেকেই শনাক্ত করেছি। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের প্রত্যাশা, ঘাটতি এবং জরুরি সমস্যা আমরা নোট করেছি। তারপর আমরা প্রতিটি ইস্যুর জন্য গবেষণাভিত্তিক সমাধান তৈরি করেছি।
আমাদের প্রচারণা মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। বড় দলের মতো প্রচার টিম নেই, তাই আমাদের প্রচেষ্টা একটু সীমিত। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো- নতুন বাংলাদেশের জন্য উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। ঢাকা-১০ আসনের মানুষ খুবই সচেতন, শিক্ষিত ও বিশ্লেষণধর্মী। সঠিকভাবে আমাদের বার্তা পৌঁছালে বড় সংখ্যক ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
ঢাকা মেইল: মাঠের প্রতিক্রিয়া কেমন?
মিলি: মানুষ আমাদের পরিকল্পনা শুনে আশাবাদী। হাজারীবাগের কলকারখানা ও শিল্পাঞ্চল পুনরায় ফিরে আসবে—এমন পরিকল্পনা তাদেরকে স্বস্তি দিচ্ছে। মোবাইল চিপ ইন্ডাস্ট্রি এবং অন্যান্য টেকনোলজি ভিত্তিক শিল্প এখানে আনা হবে। কাঁটাবন ও নিউমার্কেটের ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের নিরাপদভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত থাকে এবং স্থায়ীভাবে ব্যবসা করতে পারে।
আমরা স্ট্রিট ভেন্ডর গড়ে তোলে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আরও উন্নত করতে চাই। এই উদ্যোগগুলো এলাকার অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং বাসযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে পরিকল্পনা বেশি আকৃষ্ট করছে।
ঢাকা মেইল: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
মিলি: আমি আশা করেছিলাম আমাদের মধ্যে পলিসি বেসড (নীতি-ভিত্তিক) বিতর্ক হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অন্য প্রার্থীরা গতানুগতিক রাজনীতি ছাড়া নতুন কিছু ভাবছেন না। ঢাকার এই আসন সচেতন, শিক্ষিত মানুষের আসন। সেখানে নীতি-ভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে ভোটাররা কাদেরকে বেছে নেবে তা ভাবার সুযোগ পাবে, এমনটা আমি চাইছিলাম।
ঢাকা মেইল: জোটের বাইরে নির্বাচন নিয়ে কিছু বলবেন?
মিলি: এবি পার্টি জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে জোট করেছে, তবে ২৩টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আমার আসনও তেমন। আমি পার্টির অনুমতি নিয়ে নির্বাচন করছি। দল যদিও ছোট, তবুও আমাকে সমর্থন দিয়েছে এবং প্রতীকও দিয়েছে। ফলে, আমার নির্বাচন অনেকটা স্বতন্ত্র প্রার্থীর মতো।
আমাদের জোরটা হয়েছে শেষ মুহূর্তে। আমি দীর্ঘদিন কাজ করে আমার এলাকা গুছিয়ে নিয়েছি। ফলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে আসা আমার ঠিক হবে না। আমাদের দলটা ছোট এবং নবীন৷ দলের পক্ষেও তেমন দেওয়ার মতো সেই সক্ষমতা নেই।আমি নির্বাচনের আচরণবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে দায়বদ্ধ। আমি চাইনা আমাদের রাজনীতির মাঠ মাফিয়া তন্ত্রের হাতে চলে যাক।
আমি মনে করি আমাদের পার্টির জোটে যাওয়া একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে দল ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যেতে পারবে। কারন আমরা হলাম মধ্যমপন্থী দল। আমাদের দল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত। আমি আমার দলকে সন্তান সমতুল্য ভালোবাসি।
ঢাকা মেইল: নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য কোন কাজগুলো অগ্রাধিকার পাবেন?
মিলি: আমি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে ১০টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি— মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক, যানজট কমানো, পরিচ্ছন্ন পানি ও স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ রোধ, যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল প্রশাসন, উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ ও বাসস্থান, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ।
ঢাকা মেইল: নারী সমাজের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
মিলি: নারীরা আজ অনেক বেশি স্বকর্মী। আমি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং সমান কাজের সুযোগ দেব। নারীদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি সবাই নাগরিক অধিকার পায়, নারীরাও নিজস্বভাবে তাদের জায়গা তৈরি করবে।
ঢাকা মেইল: কী ধরনের নির্বাচনি বাধা-বিপত্তি সম্মুখীন হচ্ছেন?
মিলি: সরাসরি ক্যাম্পে কোনো বাধার মুখোমুখি হইনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু সাইবার বুলিং হয়েছে। অনেকে আমার লুক, পোশাক বা ব্যক্তিগত বিষয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছি। মামলা তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকা মেইল: আপনার আসনে আপনি একমাত্র নারী প্রার্থী। এর প্রভাব কেমন?
মিলি: সত্যিই, ঢাকা-১০ আসনের ইতিহাসে কখনও নারী প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে দাঁড়াননি। মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাকে বিশেষভাবে গ্রহণ করছেন। তারা মনে করছেন, নারীর চোখে সমস্যার সমাধানও বেশি সঠিকভাবে হবে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ভোট সুষ্ঠু গণনা নিশ্চিত করা। তবে আমি মনে করি, ভোটের নিরাপত্তা এবং গণনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমার কাজ শুধুমাত্র ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া।
ঢাকা মেইল: রাজনীতিতে আপনার পথচলা কবে থেকে? পরিবারিক প্রভাব কী?
মিলি: আমার বাবা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি এবার নোয়াখালী-৫ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। ভিন্ন রাজনীতি করলেও বাবার সততা ও একাগ্রতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। বাবার কাছ থেকে নিজস্ব চিন্তা ভাবনা এবং সততার শিক্ষা নিয়েছি। এবি পার্টির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আমি রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত।
ঢাকা মেইল: ধন্যবাদ।
মিলি: আপনাকেও ধন্যবাদ।
এমআর/এএম