ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, পোস্টাল ব্যালটসহ নানা ইস্যুতে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এই প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত নেই; জাতির কাছে নিরপেক্ষতার বিষয়ে শতভাগ কমিটমেন্ট রয়েছে ইসির। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. মেহেদী হাসান হাসিব।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মেইল: জাতিকে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমিশন কতটা প্রস্তুত? বিশেষ করে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে আপনারা কতটা সক্ষম বলে মনে করেন?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে দেশের সুষ্ঠু, সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে দায়বদ্ধ। আমরা এই দায়বদ্ধতা থেকেই আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা সবগুলোই গ্রহণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ হবে।
ঢাকা মেইল: পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নির্বাচন কমিশন কি এবার সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে আগের তিনটি নির্বাচনের ভুল মুছে দিতে পারবে?
বিজ্ঞাপন
আবদুর রহমানেল মাছউদ: আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, তা হলো পরপর তিনটি নির্বাচনের ব্যাপারে মানুষের মনে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেই মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা পৌঁছেছে। আমরা আশা করি, আগামীতে তা হবে না। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রায় ১৭ লাখ লোকবল নিয়োজিত থাকবে। আমি আশা করছি তারা স্বাধীনভাবে আইন অনুযায়ী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে এবং এতে করে অতীতে যে ভুল হয়েছে বা যেটি জনগণ মনে করে আমাদের ভুল হয়েছে, তা থেকে আমরা উঠতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা মেইল: এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করবে কমিশন?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: আরপিও পরিবর্তন করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তারা সমস্ত মাঠে থাকবেন এবং দেশব্যাপী তাদের বিচরণ থাকবে। এর সঙ্গে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী সাধারণত তাদের পাশে থাকবে। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ অনেক ভালো হবে এবং এটা সুন্দর নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে।
ঢাকা মেইল: গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ৬৭ শতাংশ আসন ঝুঁকিপূর্ণ। এই আসনগুলো নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন কি?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: যেহেতু সকল বাহিনীর সদস্য এবার নির্বাচনে নিয়োজিত আছেন, কাজেই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তারা প্রস্তুত এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবে।
ঢাকা মেইল: ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কমিশন কি ভোট আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: আমরা মনে করি সমস্ত জায়গায় আমরা প্রস্তুত। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন, পোলিং অফিসাররা সবাই প্রস্তুত। নির্বাচনের সকল সামগ্রী প্রস্তুত। নির্বাচন যে সমস্ত জিনিসের জন্য প্রয়োজন, সব প্রস্তুত এবং সবাই অধীর আগ্রহে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে।
ঢাকা মেইল: পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কি এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে পারবে?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: বিতর্কের কোনো বিষয় নেই। আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশের একটি নতুন পদ্ধতি, যা আমরা প্রথমবার শুরু করেছি। আপনি যে বিতর্কের কথা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একই ঠিকানায় ১০০ জন প্রবাসী বসবাস করে। সেখানে কিছু বিলম্ব হয়েছে। অথচ, আমরা অন্য কোনো ভোট গণনা করব না, শুধুমাত্র অথেন্টিক ভোট গণনা হবে।
ঢাকা মেইল: নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনে রদবদল আনা হবে কি?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: আগেই মাঠ প্রশাসনে রদবদল হয়েছে। নির্বাচনে এটি বেশি হয় না। এবার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য পুলিশ বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লটারির ভিত্তিতে বদলি করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই তাদের কাজে ব্যস্ত। আমি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছি। তাদের মধ্যে কমিটমেন্ট এবং সুন্দর নির্বাচন করার মানসিকতা লক্ষ্য করেছি। এটি একটি শুভলক্ষণ।
ঢাকা মেইল: দ্বৈত নাগরিক ও ঋণ খেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: আইন স্পষ্টভাবে বলে যে ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যাদের ঋণখেলাপি বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশ গ্যারান্টার। সরাসরি ঋণ তারা নেননি। সুপ্রিম কোর্টে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে গ্যারান্টররা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না। আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।
ঢাকা মেইল: রাজনৈতিক দলগুলো ইসির প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ করছে। আপনার মতামত কি?
আবদুর রহমানেল মাছউদ: অভিযোগ মোটেই সত্য নয়। নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতার ব্যাপারে শতভাগ কমিটমেন্টে রয়েছে। আমরা শতভাগ সততা ও ঈমানদারির সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করছি। কোনো দলের প্রতি বা কোনো ব্যক্তির প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালতে পারবেন প্রার্থীরা।
এমএইচএইচ/এমআর

