সাখাওয়াত হোসাইন
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি ঢাকা-১০। অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট এবং কামরাঙ্গীরচরের একাংশ নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনটি। এই আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। ভোটের মাঠে সরব এই প্রার্থী মাঠের পর্যবেক্ষণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজেকে কেন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন সেইসব বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা মেইলের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসাইন।
প্রার্থী হিসেবে কতটা সাড়া পাচ্ছেন-এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ভালো সাড়া পাচ্ছি। মানুষ ভোট দিতে চায় এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় মানুষ তার সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তাদের বিবেচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই হচ্ছে উপযুক্ত ও পরীক্ষিত সংগঠন, সেইসঙ্গে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংগঠন। দেশের এই সংকটময় সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করুক, এটা তারা চায়। এই দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবং আমি এই অঞ্চলে প্রায় ৩৩ বছর রাজনীতি করছি; তারা চায় আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করি। তাদের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুসময়ে ও দুঃসময়ে আমি তাদের পাশে ছিলাম এবং আছি। সেই প্রতিদান দিতে চায় ব্যালটের মাধ্যমে।
মাঠের পরিস্থিতি তুলে ধরে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশ চায়। সেই পরিবেশে তারা অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী এবং অবদান রাখতেও নিবেদিত। যেটাকে বলা হয় উদ্বুদ্ধ। কিন্তু কিছু কিছু আতঙ্ক আছে এবং সরকারের ব্যত্যয় আছে। মানুষ চায় সরকার আরও ভালোভাবে কাজ করুক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হোক; এগুলো তারা চায়। সেইসঙ্গে সমস্যাগুলোর সমাধান চায় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে।
রবিউল আলম বলেন, যেহেতু আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে রাজনীতি করছি এবং তাদের সঙ্গে আমার একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তারা মনে করে তাদের সমস্যা মানে আমার সমস্যা। আমি এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে, আমি তাদের জন্য কাজ করতে পারবো। বাকিটা তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ব্যালটের রায়ের মাধ্যমে।
নির্বাচিত হলে কোন কোন কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করবেন সেটা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রথম কাজই হলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্টভাবে নির্দিষ্ট কোনো কাজ করার ক্ষমতা রাখেন না। তিনি সরকার এবং রাষ্ট্রকে বাধ্য করেন অথবা মনোযোগে আনেন। এই এলাকার সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে আছি চিহ্নিত করেছি। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরকে অথবা সরকারকে পদক্ষেপ নিতে কিছুটা হলেও মনোযোগী করবো, না হলে বাধ্য করবো।
ঢাকা-১০ এলাকা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, এই এলাকায় নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেগুলো রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত করবে এবং সমাধান করবে। যেটা বলা হয় সমৃদ্ধ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সমস্যাগুলো সমাধানের নানা উপায় এবং কোথায় গেলে সমস্যাটা সমাধান হবে, সেইসঙ্গে কোথায় কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটাও নির্ধারণ করেছি। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হলো সরকার গঠন করার পর সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী করা বা তা না হলে বাধ্য করবো।
এই আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা মেইলকে বলেন, তাদের প্রতি আমার মূল্যায়ন নয়, আহ্বান হচ্ছে নির্বাচন জনগণের অবাধ রায়ের প্রতিফলন। আমরা জনগণকে সব রাজনৈতিক ও প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেব। সেইসঙ্গে আমরা বিভ্রান্তিমূলক কোনো তথ্য ছড়াবো না। আমরা নিজের বিজয়টা চাই, কিন্তু যেকোনো মূল্যে না, এ ব্যাপারে সজাগ থাকবো। মানুষকে অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়ে তাদের ওপর আস্থা রাখবো। মানুষ যে রায় দেবেন তা মেনে নেব। পরাজিত হলেও মানুষের পাশে থাকব।
অন্য প্রার্থীদের রেখে তাকে কেন ভোটাররা বেছে নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ভোটাররা একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। রাষ্ট্রের ভোটাররা হলো মালিক। এই এলাকার জনগণ ঠিক করবে তাদের প্রতিনিধিত্ব কে করবে? তাদের হয়ে কে কথা বলবে, কে দাবি আদায় করবে, কে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে সংসদে। এর জন্য তারা নির্ধারণ করবে একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে। আমি বিশ্বাস করি, আমি তাদের প্রতিবেশী, আমি তাদের বন্ধু। সেইসঙ্গে আমি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা নেতা। তারা মনে করেন, উপযুক্তভাবে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। সেই যোগ্যতা ও প্রতিশ্রুতি এবং ধারাবাহিকতা তারা দেখেছেন। যার ফলে যে কয়েকজন প্রার্থী আছেন, তাদের যেকোনো কাউকে পছন্দ করার ভোটারদের অধিকার আছে এবং তার মধ্যে আমাকে পছন্দ করবেন, এটা আমার বিশ্বাস। সেইসঙ্গে জানা-শোনার মাধ্যমে নির্ধারণ করার সুযোগ, নিশ্চয় তারা সেটা করবেন।
এসএইচ/জেবি