Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে ২ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিলে দুই দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর পথও উন্মুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ইরানের সদিচ্ছাপূর্ণ অবস্থানের আরেকটি প্রমাণ।’

বাঘাই বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু করা সম্ভব।’

তিনি জানান, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে। শুধু তখনই আমরা পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব’।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে।

ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ইরান প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে, যা কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো মেনে নিলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল। নতুন পরিকল্পনায় সেই প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে।

এদিকে রোববার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এসব শর্তের কয়েকটি তুলে ধরেছেন।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমানের সম্মত নতুন রুট মেনে নেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো।

এদিকে, দুই দেশেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে এখনো ‘ব্যবস্থা নিতে হবে’। স্থানটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তেহরান সেখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সামরিক হামলা, যে পদ্ধতিতেই তা চালানো হোক না কেন, আমরা তার শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক জবাব দেব।’

সূত্র: আরব নিউজ, আলজাজিরা

এমএইচআর