Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প: কার্লসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে কার্লসন দাবি করেন, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হলো ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন; যেখানে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মনে করছে যে ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে।

কার্লসন বলেন, স্থাপনাটির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। ফলে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা কঠিন। এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

কার্লসন আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু এ বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিনই ট্রাম্পকে ফোন করছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।

কার্লসনের অভিযোগ, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নেতানিয়াহুর সামরিক পদক্ষেপের আগ্রহের পেছনে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সহযোগিতা পেতে নেতানিয়াহু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন কার্লসন। 

তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থানের সঙ্গে একমত।

কার্লসন আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তাকে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন বলে দাবি করেছেন কার্লসন। 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কার্লসন আরও সতর্ক করে বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানির সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তার মতে, ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তা বিশ্ব রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া বিরোধেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের শঙ্কা, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ ইসরায়েল

ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাব না: ট্রাম্প

এদিকে গত শনিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের অবশিষ্ট এক বা দুটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হামলা চালাতে সক্ষম। এ সময় তিনি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে। তবে স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ইরান অবশ্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনায় কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

সূত্র: আনাদোলু


এমএইচআর