আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে বড় রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দীর্ঘদিনের মিত্র কট্টরপন্থি ইহুদি দল- ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ছাড়া ইঙ্গিত দিয়েছে। এমনকি বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের উদ্যোগে সহযোগিতা করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির বিষয়ে ইউটিজের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহুর জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইউটিজের সাতটি আসন নেতানিয়াহুর জোট থেকে সরে গেলে তার জোটের আসনসংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৬টিতে।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের দল ইয়াশারের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ইউটিজে সহযোগিতা করলে নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউটিজে সরাসরি মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে সংসদে আস্থা ভোটে বিরত থাকতে পারে। পাশাপাশি আইজেনকটের জোট ইসলামপন্থি আরব দল রা’আমের আটজন সংসদ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইউটিজের দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ সামরিক বাহিনীতে অতি-গোঁড়া ইহুদি তরুণদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন।
দলটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়েশিভার (ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার আইনি নিশ্চয়তা দাবি করে আসছে। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার সেই আইন পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইউটিজের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দলটির চেয়ারম্যান ইয়াকভ আশের আগেই জানিয়েছিলেন, তাদের দল কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে কাজ করছে না।
ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের সামরিক অব্যাহতির বিষয়টি আইনি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নেও দলটির মধ্যে ঐকমত্য নেই। ফলে দলটির অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়।
অন্যদিকে আরেকটি অতি-গোঁড়া ইহুদি দল শাসের নেতা আরিয়েহ দেরি লিকুদকে বাদ দিয়ে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, লিকুদকে সঙ্গে না নিয়ে গঠিত কোনো সরকারে শাস অংশ নেবে না। ফলে ইউটিজের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্ট আগামী ১০ নভেম্বর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন উপযুক্ত প্রার্থীকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও আগাম নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর