ইসরায়েলের ২৬তম জাতীয় নির্বাচনে ভালো ফল করা আরব দলগুলোর নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি দাবি করেছেন, কাতার ও তুরস্ক থেকে অবৈধ অর্থ সহায়তা নিয়ে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করেছে আরব দলগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সলবার্গ বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্তের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে নির্দেশ দেওয়ার পর বেন-গভির এ আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কাতারের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে শিন বেতের আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া উচিত।’
এরআগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কাতার ও তুরস্কসহ কোনো বিদেশি পক্ষ অর্থ পাঠিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
তবে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তারা উপস্থাপন করতে পারেননি নেতানিয়াহু সরকার।
এরপরই নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ এই বিদেশি অর্থায়নের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখতে শিন বেত প্রধানকে একটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ভোট গণনার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বিরোধী দলগুলোও ৪৮ আসন নিয়ে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে আরব দলগুলোর জোট বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের প্রধান মনসুর আব্বাস ও অন্যান্য নেতারা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের দাবি, নির্বাচনে আরব নাগরিকদের বড় জয় এবং তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতেই নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা এসব ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট বলেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ ব্যবহার করে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ বিলম্বিত করা উচিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলগুলোকে অন্য দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে। এ অবস্থায় আরব দলগুলোর আসন ও সমর্থন নতুন সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, আরব নিউজ
এমএইচআর




