Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

এবার ভারতের কর্ণাটকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১ কোটি নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। এর মধ্যেই দেশটির কর্ণাটক রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। এতে আগের তালিকার তুলনায় ৯৯ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।  

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৪ কোটি ৫৫ লাখ ১১ জন। এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে এই সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৩১৪।

কর্ণাটকের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ভি. অনবুকুমার জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ২ কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার ১০৭ জন পুরুষ, ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ হাজার ৮৪১ জন ভোটার রয়েছেন। 

তালিকায় ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। এ ছাড়া ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৩৪। রাজ্যটিতে প্রবাসী ভারতীয় ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ২৫২ জন।

নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩০ জুন থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর আগে ২৪ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আবেদন ও আপত্তি গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নথিপত্র যাচাই, শুনানি এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেন।

প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, খসড়া তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন অথবা ভোটার যাচাইয়ের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, এমন ব্যক্তিদের। এ শ্রেণিতে বাদ পড়েছে ৮০ লাখ ৬২ হাজার নাম।

এ ছাড়া মৃত হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় ১৬ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি এবং একাধিকবার নাম থাকায় সাত লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কারণে বাদ পড়েছে আরও ৩ লাখ ৮৩ হাজার নাম।

একই সময়ে ঠিকানা পরিবর্তন এবং অন্যান্য সংশোধনের মাধ্যমে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩৮ জন ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। 

এদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলায় বিপুলসংখ্যক ফর্ম-৭ জমা দিয়ে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হয় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে।

তবে কর্ণাটকের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা গণহারে ফর্ম-৭ তৈরির অভিযোগ নাকচ করেছেন। 

তিরি বলেন, নির্ধারিত তদন্ত ও শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশের ভিত্তিতেই এ ধরনের ফর্ম তৈরি করা যায়। প্রায় ৬০ হাজার ফর্ম-৭ কর্মকর্তারা নিজেরা গণহারে তৈরি করেছেন—এমন সংবাদও অস্বীকার করেন তিনি।

নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ভোটারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে ৬১ হাজার ৯৬০ জনকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

কর্তৃপক্ষ বলেছে, নির্ধারিত তদন্ত ও কারণ উল্লেখ করা আদেশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও অন্যান্য সংশোধনের জন্য প্রায় ২৬ লাখ ২৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ৬৪ হাজার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, ৩ লাখ ৩ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার আবেদন তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল বলে জানান প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা।

যোগ্য ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। কারও নাম বাদ পড়ে থাকলে এবং তিনি ভোট দেওয়ার যোগ্য হলে, তাকে ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, এসআইআর শুরু হওয়ার পর দেশির বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়ার হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তির বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। 

এর পরপরই যুব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলগুলো রাজপথে নেমে আসে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন শুরু করে।


সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস

 

এমএইচআর