আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের ২৬তম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দখলদার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি সরকার পরিবর্তন আসবে—সে দিকেই নজর এখন আঞ্চলিক দেশগুলোর। তবে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির এই নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, তা নিয়ে তেহরানের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে জানিয়েছে ইরান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন, তা ইরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে শাসনব্যবস্থা এই অঞ্চলে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ ছাড়া কিছুই বয়ে আনেনি, সেই ব্যবস্থার নেতৃত্বে কে থাকবেন, তা নিয়ে আমাদের বিশেষ কিছু যায় আসে না’।
বাঘাই আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না সেখানে আদৌ কোনো নির্বাচন হচ্ছে। বরং কে বেশি মানুষ হত্যা করতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে’।
ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ইরানের এই বক্তব্য এসেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।
তবে তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেই দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা করছে না ইরান।
যদিও সম্প্রতি ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু।
রোববার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য তিনি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষযে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘ফাঁকা হুমকি’ বলে অভিহিত করেন।
বাঘাই বলেন, “এই ধরণের বক্তব্য মূলত ইসরায়েলি নেতৃত্বের ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ইহুদি রাষ্ট্রটির ৭৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর ফলাফল ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতা নেতানিয়াহুর কয়েক দশক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটাতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সামনে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিরোধী রাজনীতির অন্যান্য নেতারা।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্সের তৈরি জরিপ বলছে, ইসরায়েলের সংসদ- নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬২টি আসন পেতে পারে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ক্ষমতায় এলেও ইরানকে প্রধান নিরাপত্তা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স
এমএইচআর