আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ এএম
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলার সময় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের পরিচালক ওবায়দুল্লাহ আল-মায়তাহ জানান, হামৌদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আল-মায়তাহ বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। জাতীয় ঐক্যে কোনো ধরনের ফাটল ধরতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ শোনা যায়। এরপর মুখোশধারী বন্দুকধারীরা গির্জায় ঢুকে কয়েক মিনিট ধরে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মামলাকার প্রতিবেদনে বলা হয়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় একটি গাড়ি থেকে নেমে গুলি চালানো দুই সন্দেহভাজনকে ধাওয়া করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত খালেদ বুরকান আল-মামলাকাকে জানান, সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যজনের হাতে রাইফেল ছিল।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করে বলেন, জর্ডানকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
এর আগে, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জর্ডানবাসীর রক্ত অত্যন্ত মূল্যবান। এই দেশের বিরুদ্ধে যে দাঁড়াবে, তার ওপর আমরা কঠোর হাতে আঘাত হানব।’