Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণ লকডাউনের’ নির্দেশ নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে গোলাগুলিতে পাঁচ ইসরায়েলি আহত হওয়ার পর পুরো পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণ লকডাউন’ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি এ নির্দেশ জারি করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হেবরন শহরের কাছে ‘তেলেম’ ও ‘কিরিয়াত আরবা’ নামক অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংযোগস্থলে একটি সামরিক চৌকিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী হামলা চালায়। 

ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, গোলাগুলিতে ৫ জন ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারী আহত হন, যাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে হামলার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পাল্টাগুলিতে ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী নিহত হন।

আইডিএফ জানিয়েছে, হেবরনের কাছাকাছি ফার্শ আল-হাওয়া চেকপোস্ট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ইসরায়েলি নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়িতে থাকা দুই ফিলিস্তিনি  চেকপোস্টে থাকা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার খবর পাওয়ার পর সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট  গোলাগুলি চলে এবং দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী নিহত হয়। 

ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের দাবি, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বড় ধরনের কোনো হামলার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

এই ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির এবং নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি হেবরন শহরে অবিলম্বে অবরোধ আরোপ এবং পুরো জুডিয়া ও সমারিয়ায় (পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি নাম) পূর্ণাঙ্গ লকডাউন কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে ্ওই হামলার জন্য ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে দায়ী করেছেন এবং হামলার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই হেবরন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি, বাড়িতে অভিযান এবং গ্রেফতার কার্যক্রম চলছে।

এদিকে সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করে হামাস এটিকে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল


এমএইচআর