আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
সৌদি আরবে অপরাধের শাস্তি কঠোর হলেও রাজপরিবারের সদস্যরা শাস্তি থেকে রেহাই পান— এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ওঠে। সম্প্রতি দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর এই দাবি আবারো জোরালো হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক তথ্য অন্য কথা বলে। সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সেসব ঘটনা তুলে ধরা হলো।
এটি সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাসের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা। ১৯৭৫ সালের ২৫ মার্চ প্রিন্স ফয়সাল তার আপন চাচা এবং তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজকে রাজপ্রাসাদে গুলি করে হত্যা করেন।
তদন্তে তিনি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই বছরের জুন মাসে রিয়াদের একটি চত্বরে প্রকাশ্যে তরবারির আঘাতে এই রাজপুত্রের শিরশ্ছেদ করা হয়।
২০১৬ সালে সৌদি আরবে প্রিন্স তুর্কি বিন সৌদ আল-কবিরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আধুনিক সময়ে রাজপরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ এটি।
২০১২ সালে রিয়াদের উপকণ্ঠে মরুভূমিতে এক প্রমোদ শিবিরে ঝগড়ার সময় আদেল বিন সুলাইমান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
ইসলামি আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী পরিবার বিপুল অর্থের বিনিময়ে ‘ব্লাডমানি’ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর রিয়াদে এই প্রিন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৯৭৭ সালে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস মিশাল বিনতে ফাহদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়। রাজপরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রেম ও ব্যভিচারের অভিযোগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই সৌদি রাজকন্যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি দূতাবাস জানিয়েছিল, ইসলামি আদালতের রায়ের পর ব্যভিচারের অভিযোগে প্রিন্সেস ও তার কথিত প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে প্রিন্সেসকে কী পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত নয়।
প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি রাজপরিবারের অন্তত তিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নথিভুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে বাদশাহ ফয়সালকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত প্রিন্স ফয়সাল বিন মুসায়েদের শিরশ্ছেদের তথ্য স্পষ্ট। ২০১৬ সালে প্রিন্স তুর্কি বিন সৌদ আল-কবিরের মৃত্যুদণ্ড এবং প্রিন্সেস মিশালের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাও নথিভুক্ত।
রাজপরিবারের সর্বমোট কত সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা যাচাই করা যায় না। তবে নথিভুক্ত ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, সৌদি রাজপরিবারের সদস্যরাও মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাননি।
সূত্র: ইউপিআই; রয়টার্স; দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
এমএ/এমএইচআর