চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে বিভিন্ন দেশে নাগরিকসহ ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সর্বশেষ গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
দন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ নাগরিকের নাম- মোহাম্মদ আল জাহের, আলী আল শেখ, হাসান আল ফারাজ, রেদা আল আবু আবদুল্লাহ এবং আলী আল রাবিহ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলের পর সুপ্রিম কোর্টও সাজা বহাল রাখে। পরে রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ নিয়ে চলতি বছর সৌদি আরবে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। ২০২৫ সালে একই ধরনের অভিযোগে ৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
অন্যদিকে দেশটির পবিত্র নগরী মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, তদন্তের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তা’জির বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির আওতায় মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে কথিত কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
এদিকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর) দাবি করেছে, সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে হাসান জাকি মোহাম্মদ আল-ফারাজের বিরুদ্ধে শৈশবে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের নির্বিচার আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ এর আগে আল-ফারাজের আটককে নির্বিচার বলে উল্লেখ করে তার মুক্তি ও ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়েছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে দেশটির অবস্থান ছিল তৃতীয়—চীন ও ইরানের পর।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, ধর্ষণ, সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া দেশটির আইনি ব্যবস্থায় ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, জাদুবিদ্যা ও যাদুটোনা এবং কিছু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অপরাধেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
সৌদি সরকার অবশ্য মৃত্যুদণ্ডকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আপিলের সব ধাপ শেষ হওয়ার পরই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র: এএফপি, দ্য ন্যাশনাল
এমএইচআর




