Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

৭ দিন পর মুক্তি পেলেন ককরোচ পার্টির দুই নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে সাত দিন কারাগারে থাকার পর মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দিল্লির জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশ ও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারা। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির আদেশ দেন। 

এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর জন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করার অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক করে পুলিশ। পরে ১৪ অক্টোবর তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পাঁচদিন তিহার জেলে বন্দি থাকার পর গত ১৯ অক্টোবর আরও দুই দিনের জন্য তাদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

বুধবার পুলিশ তাদের হেফাজত আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন জানালেও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত তাদের ব্যক্তিগত মুচলেকা ও জামিনদারদের জামিননামা গ্রহণ করেন। প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত ও জামিনদার-সংক্রান্ত বন্ড দিতে বলা হয়েছে। 

তবে মুক্তির আদেশের পরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের অনুসন্ধানপ্রক্রিয়া চলবে এবং পরবর্তী শুনানি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ভারতের আইনবিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই সিজেপি নেতা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই তারা শান্তিভঙ্গ করবেন না। শুধু তা-ই নয়, সরকার যত দিন পর্যন্ত যন্তর মন্তরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে, তত দিন ওই এলাকায় কোনও কর্মসূচির ডাকও দেবেন না তারা।

প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ আয়োজনকে কেন্দ্র করে। স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পরিচিত। তবে সম্প্রতি দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয় দিল্লি পুলিশ। 

সিজেপির নেতারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন। 

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিতে হয়েছিল। এরপর ১৩ অক্টোবর তারা জন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দেন। 

পুলিশের দাবি, তাদের এই কর্মকাণ্ড আগের মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর