বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সিজেপি নেতা সৌরভ ও আশুতোষের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সিজেপি নেতা সৌরভ ও আশুতোষের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল

‘ককরোচ জনতা পার্টি’-কে (সিজেপি) সমর্থন করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়ার অভিযোগে সিজেপির আটক দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। 

আর তার পরেই সিজেপি-কে সমর্থন করে পোস্ট করলেন রাহুল। কংগ্রেস নেতার দাবি, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়!

বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের ইস্তফা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে ককরোচেরা যেমন পথে নেমে আন্দোলন করছেন, তেমনই বিক্ষোভের তেজ বাড়াচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। 

কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই জোট ইতিমধ্যে দিল্লির রাজপথে নেমেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছে। 

গত শনিবার সিজেপির ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটকও হয়েছেন বিরোধী শিবিরের অনেক নেতানেত্রীই। সেই তালিকায় ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার এবং অরবিন্দ কেজরীবাল। 

তবে সে দিনের কর্মসূচিতে রাহুল বা কংগ্রেস নেতৃত্বকে দেখা যায়নি। অনেকে মনে করেছিলেন, সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ রাখতে চাইছে কংগ্রেস। যদিও সেই মত ভ্রান্ত, তা স্পষ্ট হল বুধবার রাহুলের পোস্টে।

কংগ্রেস নেতার দাবি, ‘‘শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক ও ‘ইন্ডিয়া ব্লক। ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার হলেও লক্ষ্য একটাই। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে পথে নামছেন সবাই।’’ 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাহুলের বাড়িতে চা-চক্রে বসেছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের নেতানেত্রীরা। আন্দোলনের পরবর্তী অভিমুখ কী হবে, সেই রণকৌশল নির্ধারণ করাই ছিল লক্ষ্য। 

বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী শিবিরের সব নেতানেত্রীর মুখে একটাই কথা শোনা যায়, আন্দোলনের পথ ছাড়ছেন না তারা। যন্তর মন্তর তারা ছাড়বেন না। বুধবারের পোস্টে সেই যন্তর মন্তর ‘পুনরুদ্ধারের’ কথাই লিখলেন রাহুল। তার বার্তা, ‘‘যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের। আমরা সেটা পুনরুদ্ধার করবই।’’

সিজেপি নেতাদের গ্রেফতার এবং তাদের জেলে পাঠানো উচিত হয়নি বলে মত রাহুলের। তাঁর মতে, ‘‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। তার জন্য যুবকদের জেলে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ।’’

সোমবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। 

যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। তবে কেন্দ্রের সেই নির্দেশিকা না-মেনেই মঙ্গলবার সকালে গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন সিজেপির সৌরভ, আশুতোষ। সঙ্গে ছিলেন অজিঙ্ক শিন্দে নামে আর এক নেতাও। 

কয়েক জন সিজেপি সমর্থকও সৌরভদের সঙ্গে ঢুকে পড়েছিলেন যন্তর মন্তরে। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তারা। 

নবাইকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জানা যায়, ওই ঘটনার জন্য মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দু’টি এফআইআর-ও দায়ের করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ককে গ্রেফতার দেখিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই গ্রেফতার (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট)। 

সকাল ৮টা নাগাদ আটক তিন সিজেপি নেতাকে মন্দির মার্গ থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। তা ছাড়া সৌরভ এবং আশুতোষের বিরুদ্ধে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। 

আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ এবং আশুতোষকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। শান্তিভঙ্গ না-করার শর্তে বন্ডে সই করার পর ছেড়ে দেওয়া হয় অজিঙ্ককে।

শুধু রাহুল নন, অভিষেক ও কেজরীবালের মতো বিরোধী নেতারাও মুখ খুলেছেন এই গ্রেফতার নিয়ে। অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘তথাকথিত সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদীরা, এখন নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ালেও গ্রেফতার করেছে।’’ কেজরীর প্রশ্ন, ‘‘নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ?’’

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর