আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ক্রমবর্ধমান বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এসব অভিযানের লক্ষ্য হবে সৌদি শহর, বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা পালন করবে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো। তবে হুথিদের অবস্থানে সরাসরি আক্রমণ চালানো এই অভিযানের অংশ হবে না।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। এ কারণে সৌদি আকাশসীমা সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য একটি এ৪০০এম অ্যাটলাস পরিবহন বিমান এবং সামরিক উপদেষ্টাও পাঠাবে। পরিবহন বিমানটি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরে সহায়তা করবে। আর ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারা সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবেন।
এর আগে সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেই সহায়তার আওতায় আরএএফের ভয়েজার বিমান দিয়ে এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং বা আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছিল ব্রিটিশ বাহিনী। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবার যুদ্ধবিমানও যুক্ত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত দুই মাসে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ধারাবাহিতভাবে হামলা করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। এতে সৌদির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পাশাপাশি এই অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের সরকার বলেছে, সৌদি আরবকে দেওয়া নতুন সহায়তার লক্ষ্য প্রতিরক্ষা জোরদার করা। তবে ইয়েমেনের সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে লন্ডন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর