Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের কড়া সমালোচক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ এএম

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থাসমূহ (ফেডারেল এজেন্টস)। চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।

খবর দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)। দুই অভিজ্ঞ সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরের দিকে ইলহানের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এর কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) আদালতের নির্দেশেই তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, তদন্তের স্বার্থে ইলহান ওমরের নাম কিংবা কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিক ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইলহান ওমর যখন ছোট ছিলেন, তখন তার প্রয়াত বাবার জমা দেওয়া অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির যে অভিযোগ রয়েছে, এই তল্লাশি তার সঙ্গেই সম্পর্কিত। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইলহান ওমর এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শত্রুদের দমনে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

তিনি লেখেন, ‘আমি ভালো আছি। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, রাজনৈতিক শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করারই এক অপচেষ্টা। গত দশ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা আর অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে টার্গেট করেছেন। এটি তার রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শনেরই আরেকটি ধারাবাহিক রূপমাত্র।’

দৃঢ় প্রত্যয়ে এই কংগ্রেস সদস্য আরও যোগ করেন, ‘আমাকে স্তব্ধ করা যাবে না।’

সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই আইনপ্রণেতা ছোটবেলায় শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি বর্তমানে মিনেসোটা রাজ্যের একটি আসন (যেখানে মিনিয়াপোলিস অন্তর্ভুক্ত) থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত নিরাপত্তা প্রধান টম হোম্যান জানিয়েছিলেন যে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। সেই সময়ে ইলহান জানিয়েছিলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি এবং এসব অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বাসভবনের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা / ছবি: রয়টার্স
কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়ির বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা / ছবি: রয়টার্স

এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অতীতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ইলহানের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। রক্ষণশীল পডকাস্টার বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, ডেপুটি হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন কীভাবে ইলহানের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো যায়। সাক্ষাৎকারে মামলা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সময় ভ্যান্সকে বলতে শোনা যায়, ‘কীভাবে তাকে ধরা যায়? কীভাবে তদন্ত করা যায়? কীভাবে কাজটি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব?’

গত মার্চ মাসে ইলহানের দফতর থেকে ভ্যান্সের এসব দাবিকে ‘মনগড়া ও মানহানিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। সোমবারের এই অভিযানের পর তাৎক্ষণিকভাবে ইলহানের কার্যালয় থেকে আলাদা কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এই তল্লাশির ঘটনাটি ঘটল, যেখানে কংগ্রেসে নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে রিপাবলিকানরা।

ইলহান ওমর অতীতেও একাধিকবার বলেছেন, ট্রাম্পের তীব্র উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তিনি ও তার পরিবার ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আক্রমণকে তিনি ‘বিকারগ্রস্ত’ বলেও আখ্যা দেন।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলহানসহ সোমালি অভিবাসীদের ‘আবর্জনা’ বলে কটূক্তি করেছিলেন। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের সমালোচনা করায় তিনি প্রোগ্রেসিভ গ্রুপ ‘দ্য স্কোয়াড’ এর মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর ও রশিদা তলাইবকে ‘পাগলাগারদে পাঠানো’ এবং ‘যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানোর’ কথা বলেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে মিনিয়াপোলিসে ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযান ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের টালমাটাল সময়ে এক টাউন হল বৈঠকে ইলহানের ওপর ভিনেগার স্প্রে করায় গত মাসে মিনেসোটার এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উক্ত বৈঠকে ইলহান ওমর ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সূত্র: এপি, রয়টার্স, আল জাজিরা

এফএ/