আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লিকে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর রাস্তায় ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
এমনকি, দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোস্টেলে ঘুরে ঘুরে কমবয়সিদের খুঁজছে পুলিশ। কেউ শনিবার যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছেন বলে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের বিতর্কিত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার রাস্তায় নামছে সিজেপি। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে তারা।
এই সব দাবি সামনে রেখে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তরুণ প্রজন্ম সিজেপি-র আন্দোলনে যোগ দিতে চলেছে।
রাজধানীতে বড়সড় জমায়েতের আশঙ্কা করে শুক্রবার রাত থেকেই পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাশ টানা হয়েছে মেট্রো ও ট্রেন যাত্রায়।
প্রথমে বলা হয়েছিল, দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ এবং প্রস্থান নিষিদ্ধ থাকবে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সারা দিন। পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোনও আন্দোলনকে ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।
রাতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন নির্দেশিকা পরিবর্তন করে। জানায়, ৫৭টির পরিবর্তে ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে শনিবার দিনভর।
জনপথ-কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সেই অনুযায়ী ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়া, দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে প্রয়োজনমতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করা হতে পারে। সাধারণ মানুষকে খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় না বেরোনোর অনুরোধ করা হয়েছে পুলিশের তরফে।
দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি কর্মী শনিবার রাস্তায় থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার জওয়ান।
এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক জোনের দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা।
আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে, এমন ৩৭টি জায়গা চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরাও এলাকা ঘিরে রেখেছেন রাত থেকে।
রয়েছেন অনেক প্রশিক্ষিত নারী পুলিশকর্মী ও জওয়ান। হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মীকে শনিবার দিল্লিতে মোতায়েন করা হচ্ছে।
ট্রেন পরিষেবাতেও রাশ টানা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে যে সব মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছোনোর কথা ছিল, সব বাতিল ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ দিল্লির হোটেল, গেস্ট হাউস, হোস্টেল এবং পেয়িং গেস্ট পরিষেবাগুলিতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে কারা বাইরে থেকে এসে দিল্লিতে থাকছেন, জানতে চাওয়া হচ্ছে।
বিশেষত তরুণ-তরুণীদের বড় কোনও দলকে একসঙ্গে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে পুলিশের মাইকিং।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বিস্তীর্ণ অংশে। সেখানে বড় জমায়েত এবং অন্যান্য কার্যকলাপ যে নিষিদ্ধ, লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।
অন্য দিকে, সিজেপি এবং অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। সিজেপি-র কনভেনর অভিজিৎ দীপকে মুম্বই থেকে রাতে জানিয়েছেন, সকালেই তিনি দিল্লি পৌঁছোবেন এবং তখন তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
কিন্তু তাতে যেন আন্দোলন থেমে না যায়, সেই অনুরোধ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলনের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
-এমএমএস