Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

এবারও শান্তিতে নোবেল পেলেন না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবির পরও এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিততে পারলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম ‘নাভি’ পিল্লাই। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না ট্রাম্পের।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পিল্লাইকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে। 

তার কাজের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা রাখা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাবি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের পার্থক্য।

এদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তার ভূমিকার জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য। 

সর্বশেষ গত বুধবারও (৭ অক্টোবর) ট্রাম্প বলেছিলেন, এই পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে তিনি মনে করেন। তবে একই সঙ্গে পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘নরওয়ের নোবেল কমিটি হয়তো তার মতো ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী হবে না’।

এরআগে ২০২৫ সালে দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংঘাত থামানো এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। 

তিনি দাবি করেন, বিশ্বরজুড়ে কমপক্ষে ৮টি যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এসব প্রচেষ্টার সাফল্য, স্থায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মতভেদ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বলা হয়, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়া ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে। ফলে এবারও তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা না হওয়াটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধ বন্ধের দাবি নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তব অবদান এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

২০২৫ সালেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ওই বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। 

পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাচাদো নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে প্রতীকীভাবে উপহার দেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল।  

সূত্র: রয়টার্স, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি


এমএইচআর