Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কাতার উপকূলে ট্যাংকারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

কাতারের উত্তর উপকূলে একটি জাহাজে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কাতারের মাদিনাত আশ-শামাল থেকে ৫১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ওই ট্যাংকারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর আল-জাজিরার।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই হামলার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা জানা যায়নি, তবে ইউকেএমটিও-র আগের সতর্কবার্তাগুলোতে ‘ক্যাজুয়ালটি’ বা হতাহত শব্দটি সাধারণত নাবিকদের আহতের পরিবর্তে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ভ্যানগার্ড টেক’-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটি ছিল অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘অ্যাসারস’।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থাটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। তবে হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা জানায়নি ইউকেএমটিও। 

মূলত উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা বেশ অস্বাভাবিক। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে কোনো ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম খবর।

এদিকে কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি কাতার।

আলজাজিরা বলছে, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেই জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। সরু এই সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। 

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহণ করা হতো।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে।

ইউকেএমটিও গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর গত সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যতগুলো হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার অর্ধেক।

তবে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে তেলের এই রপ্তানি।

তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল প্রতিদিন এক কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।

-এমএমএস