Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

দু’বার বিষপ্রয়োগের পরও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রাণঘাতী বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল তার শরীরে। একবার নয়, পরপর দু’বার! কিন্তু তারপরও মৃত্যু হয়নি পঞ্চাশ বছর বয়সী মার্কিন নারী বন্দি ক্রিস্টা পাইকের।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

তাকে ‘পেন্টোবারবিটল’ নামে দু’টি রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও তার মৃত্যু হয়নি।

সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড প্রক্রিয়া চলাকালীন দু’বার ঘরের পর্দা টেনে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও বেরিয়ে যেতে বলা হয়।

পাইকের আইনজীবীরা মাঝপথেই মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য জরুরি পিটিশন দাখিল করে জানান, পাইক জ্ঞান হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তার হৃৎস্পন্দন চলছে এবং তিনি সশব্দে নাক ডাকছেন। এরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

টেনেসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেটের ওষুধ কাজ না করলে দ্বিতীয় সেটের ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সেটের পরেও বন্দি বেঁচে থাকলে কী করণীয়, সেই বিষয়ে নিয়মে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।

ঘটনার জেরে টেনেসির গভর্নর বিল লি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘থার্ড-পার্টি’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাকি থাকা সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন তিনি। 

যদিও টেনেসির সংশোধন দফতরের দাবি, তারা আইনি প্রোটোকল মেনেই কাজ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে মে মাসে তিনজনকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত টোনি কারুথার্স নামে এক বন্দির শিরা খুঁজে না পাওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল।

শিরা খুঁজে না পাওয়া, পেন্টোবারবিটলের মান খারাপ হওয়া এবং জরুরি চিকিৎসার অভাবেই এই বিপত্তি ঘটেছে। পাইকের আইনজীবীদের নিযুক্ত চিকিৎসক জোয়েল জিভট জানিয়েছেন, সম্ভবত পাইকের রক্তে পেন্টোবারবিটলের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছোয়নি যা তার শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্র বিকল করতে পারে। উল্টো দেরিতে চিকিৎসা শুরুর কারণে তার মস্তিষ্কে গভীর ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডেয়ারেল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছরের তরুণী কলিন স্লেমারকে চরম অত্যাচার করে খুন করেছিলেন পাইক।

বিপথগামী কিশোর-কিশোরীদের এক জব ট্রেনিং ক্যাম্পে তাদের আলাপ হয়েছিল। পাইকের অভিযোগ ছিল, কলিন তাকে অপমান করেছেন এবং তার প্রেমিককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খুনের পর নিহতের বুকে শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত উল্টানো ‘পেন্টাগ্রাম’ এঁকে দেওয়া হয়েছিল।

নিহতের মাথার খুলির একটি অংশ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন পাইক এবং অন্যদের কাছে এই খুনের বড়াই করেছিলেন বলে দাবি সাক্ষীদের।

এই নৃশংস খুনের দায়ে ১৯৯৬ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। টেনেসির ‘ডেথ রো’-তে থাকা একমাত্র নারী বন্দি তিনিই। 

আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারকে বলা হয় ‘ডেথ রো’। পাইক তার প্রাণভিক্ষার আর্জিতে জানিয়েছিলেন, তিনি কলিনকে শুধু মারধর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৮ বছরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী হিসেবে নিজেকে সংযত করতে পারেননি।

মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন পাইকের আইনজীবীরা। তাদের যুক্তি ছিল, পাইকের শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস বিচারকেরা সেই ভাবে বিবেচনা করেননি।

যদিও সুপ্রিম কোর্ট একাধিক আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ বহাল রাখে।

অন্যদিকে, ফ্লরিডা থেকে মেয়ের খুনির মৃত্যু দেখতে এসেছিলেন নিহত কলিনের মা মে মার্টিনেজ। এই ঘটনায় তিনি হতাশ। মার্টিনেজের কথায়, ‘কী একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা! এমন একটা দিন বা মুহূর্ত বাদ যায় না, যখন আমি কলিনের কথা ভাবি না।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার পর থেকে ওই দেশে এখনও পর্যন্ত ১৬৬৩ জন পুরুষের ফাঁসি হলেও, নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ১৮, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের মাত্র ১ শতাংশের মতো।

-এমএমএস