Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে জরুরি বৈঠকে বসছেন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-এর তিন সদস্য দেশ সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠক করেন। সেখানে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করা। যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো এক পক্ষের ওপর যেকোনো আক্রমণকে সকল পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে’।

এদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ডিফেন্স ফোর্সেস প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগগির রিয়াদে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। 

এরআগে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হুতি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষ করে মক্কা এবং দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও বৈঠক থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে।

তবে নতুন চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সেনাপ্রধানদের আসন্ন বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও হুথির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের ‘লৌহ হস্ত’ দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে সম্মত হয়েছে। ফ্রান্সও ইয়ানবু তেল টার্মিনালের নিরাপত্তায় সেনা পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এমএইচআর