ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে সৌদি যুবরাজের অনুরোধ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিষটির সঙ্গে জড়িত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দুইবার ফোন করে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ খোলা রাখা। অর্থাৎ ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে চাইলেও নতুন করে ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়তে অনাগ্রহী।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরসহ পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই আহ্বান জানিয়েঠিল সৌদি আরব। তবে তাদের এই অবস্থান আগের নীতির তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
গত জুলাইয়ে রিয়াদ জানিয়েছিল, ইয়েমেনের পরিস্থিতি তারা নিজেরাই সামাল দিতে পারবে। কিন্তু হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের পর সৌদি নেতৃত্ব এখন ওয়াশিংটনের সরাসরি সহযোগিতা চাইছে।
এদিকে সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবকে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং হামলার নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ডেটা দিয়ে সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার এই জরুরি নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য রিয়াদে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার কুপার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকও করেছেন।
বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীর মূল ফোকাস এখন ইরান এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র সৃষ্টি করতে আগ্রহী নন ট্রাম্প।
এদিকে মাত্র ১৮ ঘণ্টার এক তীব্র সামরিক অভিযানের পর লোহিত সাগরের উপকূলের ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল করে নিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে পুরো লোহিত সাগর উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
আলজাজিরার এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা শহর থেকে সরকারি বাহিনী আগেই সরে যাওয়ায় দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হুথি যোদ্ধারা তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়েনি। দ্রুত অগ্রসর হয়ে তারা প্রথমে ধুবাব এবং পরে মুরাদ দখল করে নেয়। মুরাদ ছিল লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থল অভিযানের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও অভিযান চালায় হুথিদের নৌবাহিনী। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে প্রবেশ করে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরপর তাদের বাহিনী জুকার দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি বা প্রতিপক্ষ বাহিনীর সংঘর্ষ এখনো চলছে বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার ওই সংবাদদাতা।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অস্থিরতার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস, রয়টার্স
এমএইচআর




