Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

সৌদি-হুথি লড়াইয়ে নিহত ৭৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির মধ্য ভয়াবহ লড়াই হয়েছে। সৌদি আবর সীমান্তের কাছে ইয়েমেনের হাজ্জাহ প্রদেশে তীব্র লড়াইয়ে অন্তত ৭৫ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন।

উভয় পক্ষের সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক ব্যবহার করে সংঘটিত এই তুমুল লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৪০ জন হুথি বিদ্রোহী এবং বাকি ৩৫ জন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সদস্য।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ইয়েমেনে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে এই তীব্র লড়াই চলছে।

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে কার্যত সৌদি বাহিনীই মূলত আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করে আসছে; তা সত্ত্বেও তারা দাবি করে চলেছে যে একমাত্র হুথিরাই এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। 

তাদের অভিযোগ, হুথিরা আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতায় না আসার অজুহাত হিসেবেই এই লড়াইকে ব্যবহার করছে।

এদিকে, মক্কা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দোলাচলে পাকিস্তান। হুথি বিদ্রোহীদের সামাল দিতে তৎপর হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। 

মিত্ররাষ্ট্র সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফোন করেন তিনি। সৌদিতে হুথি হামলার নিন্দা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি সৌদির জনবসতি এবং অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় কমপক্ষে ৭৫ জন নিহত হয়। 

মক্কা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। আপাতত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি (যা ‘ইসলামি ন্যাটো’ নামেও পরিচিত)-তে স্বাক্ষর করেছে তিনটি দেশ। পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক—এই তিন দেশই চুক্তির স্বাক্ষরকারী। 

গত মাসে সৌদি আরবের মক্কায় এই ত্রিদেশীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তিন দেশ একে অন্যের পাশে থাকার ঘোষণা করেছে।

সৌদি আরবে হুথি হামলার পর গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, চুক্তির শর্ত কার্যকর হবে। 

অনেকেই মনে করেছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৌদির পাশে দাঁড়িয়ে হুথির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার বার্তা দিয়েছেন। পরে অবশ্য ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে, চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং এর অর্থ স্বয়ংক্রিয় ভাবে পাক সেনাকে সামরিক অভিযানে পাঠানো নয়।

গত কয়েকদিন ধরেই ইয়েমেনে বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখার দখল নিয়েছে হুথি। ফলে ওই জলপথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে সৌদির যুবরাজকে ফোন করে পাক প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক দার ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

সৌদি অবশ্য মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দুই মিত্ররাষ্ট্রের ভরসায় বসে নেই। হুথির হামলা রুখতে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছে তারা। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, তারা হুথির বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চান না।

-এমএমএস