Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবি ব্রিটেনের স্বশাসিত ৩ রাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

ব্রিটেন কি এবার ভেঙে যেতে পারে? তাদের অখণ্ডতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে শুরু করেছে। কারণ, ব্রিটেনের তিন স্বশাসিত রাষ্ট্র একযোগে সুর চড়াচ্ছে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবিতে। 

ওয়েস্ট মিনস্টারকে চাপে রাখতে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে সোমবারই (১৪ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসতে চলেছেন ওই তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের নেতারা।

ব্রিটেনের বিভাজনের সম্ভাবনা নিয়ে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রই সম্প্রতি ওয়েস্টমিনস্টারের (ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় প্রশাসন) বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে বৈঠকে বসছেন তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের নেতারা।

কার্ডিফের এক পাঁচতারা হোটেলের ওই বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়, তার ভিত্তিতে পরবর্তী গতিবিধি স্থির করতে পারে এই তিন স্বশাসিত রাষ্ট্র। 

‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজনের দাবিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করতে পারেন নেতারা। অনুমান করা হচ্ছে, ওয়েস্টমিনস্টারের উপর চাপ তৈরির জন্যই এই যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও লুট করতে চান ট্রাম্প

এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে কার্ডিফের ওই বৈঠকে থাকতে পারেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নেল। 

তারা কোনো যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করলে, তাতে কী কী বিষয়ের উল্লেখ থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে কৌতূহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সে দেশের হাউস অফ কমন‌্‌সে একটি মন্তব্য করেন। সেখান থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে মনে করছেন অনেকে। 

বার্নহ্যাম সেখানে বলেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবিতে কোনও ‘সুস্পষ্ট ঐকমত্য’ থাকলে তিনি সেখানে গণভোটের অনুমতি দেবেন। 

কিন্তু পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। জানিয়ে দেন, তিনি কোনও গণভোটে সায় দেবেন না।

ব্রিটেনের বিভাজনের এই শঙ্কার মধ্যেই বিতর্ক আরও বৃদ্ধি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে আবার ঐক্যবদ্ধ হিসেবে দেখতে চান। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্যের জেরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপরে ঘরোয়া রাজনীতিতে আরও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

ব্রিটেনের অখণ্ডতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং টানাপড়েনের মধ্যে সোমবার মুখোমুখি বসছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা।

-এমএমএস