Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

অর্থসংকটে এয়ারএশিয়া: তহবিলের প্রয়োজন যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

তীব্র তারল্য সংকট এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখোমুখি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও সাশ্রয়ী এয়ারলাইনস এয়ারএশিয়া। এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাটির অর্থের প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান- ‘অল্টন অ্যাভিয়েশন কনসালটেন্সি’-কে নিয়োগ দিয়েছে মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়। 

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার। 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয় সরকারের এই উদ্যোগ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এয়ারএশিয়াকে ভবিষ্যতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে কুয়ালালামপুর।

একটি সূত্র বলেছে, এয়ারএশিয়া মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত এবং এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে তুলনামূলক কম খরচে বিমান যোগাযোগ নিশ্চিত করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক দুরবস্থা শুধু একটি বেসরকারি কোম্পানির সমস্যা নয়, এর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়ও জড়িত। এ নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এই সিন্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। 

তবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে এয়ারএশিয়াকে সরাসরি সরকারি অর্থ সহায়তা বা ‘বেইলআউট’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। বরং প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ অর্থসংস্থানের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।

এছাড়াও নতুন করে মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ধরনের অনুমোদন বা সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে এয়ারএশিয়া ৮৩১ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নিট লোকসান রেকর্ড করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জেট ফুয়েলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি এই বিশাল লোকসানের প্রধান কারণ।

একই সময়ে কোম্পানিটির বর্তমান দায় ছিল প্রায় ১৮.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত, বিপরীতে নগদ ও ব্যাংক হিসাবে ছিল মাত্র প্রায় ৯৫৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত।

এদিকে আর্থিক চাপ সামলাতে ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু আগ্রাসী পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে এয়ারএশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে কম লাভজনক রুটগুলো বন্ধ করা, লিজদাতাদের কাছে ২৫টি পুরনো উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়া এবং খরচ কমাতে বিভিন্ন ভেন্ডর বা সরবরাহকারীদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির আলোচনা করছে বিমান সংস্থাটি।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক ঋণবাজার থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় ঋণ সুবিধা থেকে আরও ৭০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত সংগ্রহের জন্য দেশি-বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও  আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। 

বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তহবিল সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন করা, দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটানো নয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই অর্থও এয়ারএশিয়ার সামগ্রিক আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এর আগে ২০২১ সালে মহামারির পরও কার্যকর মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে তৎকালীন এয়ারএশিয়ার মূল প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল এ-কে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের ৮০ শতাংশ সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টির শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই ঋণ শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি বিমান সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য স্টার

এমএইচআর