আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ এএম
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটি কয়েক মাস আগেও ছিল পরিত্যক্তপ্রায়। পরে সেটিকে সংস্কার করে পেইং-গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে রূপ দেওয়া হয়। ফলে দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবনধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) সাউথ ক্যাম্পাসের কাছের এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পেইং-গেস্ট (পিজি) ও ভাড়া বাসায় থাকেন। দুর্ঘটনার পর বেসরকারি বসবাসকারীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট সামনে এসেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সত্য নিকেতনের একটি ভবন ধসে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। খবর পেয়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডুসু) সভাপতি আরিয়ান মান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও দিল্লি পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে তাদের জানান।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সোলাঙ্কিও নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা এনডিআরএফ ও দিল্লি পুলিশের উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।
এবিভিপির দিল্লি প্রদেশের এক মন্ত্রী রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে অবস্থান করেন। সংগঠনটির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন এআইআইএমএসে। এবিভিপির রাজ্য মিডিয়া আহ্বায়ক হরেশ এনডিটিভিকে বলেন, ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করাই তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে ভবনধসের দিনই এমসিডি কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করে এবিভিপি। সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা মিছিল করে এমসিডি কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে যান ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সভাপতি বিনোদ ঝাখরও। ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। পরে এনএসইউআইয়ের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করেন এনএসইউআইয়ের কর্মীরা। আহতদের দেখতে পরে এআইআইএমএসে যান বিনোদ ঝাখর। এনডিটিভিকে এনএসইউআইয়ের নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ঘটনার জন্য সরকারকে জবাব দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি
ভবনধসের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভবনের মালিক আনন্দ বনসালকে খুঁজছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটি কয়েক মাস আগেও ছিল পরিত্যক্তপ্রায়। পরে সেটিকে সংস্কার করে পেইং-গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে রূপ দেওয়া হয়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, আগে খালি করে দেওয়া ভবনটি কীভাবে আবার বসবাসের জন্য ব্যবহার করা হলো। সেখানে মানুষ ওঠানোর আগে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে পিজি বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। এসব আবাসনের ভাড়া অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
এ ধরনের বেসরকারি আবাসনের নিরাপত্তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সত্য নিকেতনের ভবনধস সেই পুরোনো সমস্যাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে-দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
ডুসু নির্বাচন সামনে রেখে ভবনধসের ঘটনাটি ক্যাম্পাসের রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবিভিপি ও এনএসইউআইয়ের মধ্যে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই দুই সংগঠন ঘটনাস্থলে সক্রিয় হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য উভয় সংগঠনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেল্পলাইন নম্বর দিয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে নেতাকর্মীদের অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনা একদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে ডুসু নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআই