আরও নির্ভুল এবং পরিবর্তিত এক মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। সেই ‘ইকুয়াল আর্থ’-কে সমর্থন জানিয়েও হুঁশিয়ারি দিল ভারত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আঁকতে হবে ভারতের মানচিত্র অনুসারে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রোববার একটি বিবৃতি দিয়ে জানান, জাতিসংঘে ওই মানচিত্রের সমর্থনেই ভোট দিয়েছে নয়াদিল্লি। সমর্থন করেছে ‘ইকুয়াল আর্থ’-এর মূলনীতিকে, যা আদতে সব মহাদেশের ক্ষেত্রফলকে মানচিত্রে সঠিক অনুপাতে দেখাতে চেয়েছে।
জয়সওয়াল বলেন, আমরা এই বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, এই প্রস্তাব কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্র, অভিক্ষেপ অথবা জাতীয় সীমানার চিত্রায়নকে সমর্থন করে না।
তার পরেই জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দেন যে, ভারতের সরকারি মানচিত্র মেনেই নতুন মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ আঁকতে হবে। অর্থাৎ এখন যা রয়েছে, তা-ই থাকবে।
জয়সওয়ালের কথায়, ‘জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ— এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড দেশের সরকারি মানচিত্র মেনেই আঁকতে হবে। কোনও ত্রুটিপূর্ণ, ভুল মানচিত্র মেনে নেওয়া হবে না।’
ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, অপরিবর্তনীয় এবং আপসহীন।
জাতিসংঘের মোট ১৭১টি সদস্যরাষ্ট্র শুক্রবার সাধারণ সভায় ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে ভারত-সহ ১৬৪টি দেশ ষোড়শ শতাব্দীর মার্কেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে আরও নির্ভুলভাবে ভূপৃষ্ঠের আয়তন দেখায়, এমন ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
ব্যতিক্রম শুধু আমেরিকা। তারা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। মানচিত্র বদল সংক্রান্ত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবটি পেশ করেছিল আফ্রিকার দেশ টোগো।
ফ্লেমিশ (বর্তমান বেলজিয়াম)-জার্মান ভূগোল ও মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর ১৫৬৯ সালে ‘মার্কেটর মানচিত্র’ তৈরি করেছিলেন।
জেরার্ডাস তার তৈরি মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের (মহাদেশ) আকৃতি ও কোণের সঠিক চিত্রায়নে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তবে এতে বিভিন্ন অঞ্চলের আপেক্ষিক আয়তনে উল্লেখযোগ্য বিকৃতি দেখা যায়।
মূলত ত্রিমাত্রিক একটি গোলককে (যা পৃথিবীর আকৃতি) দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে উপস্থাপনের ফলেই এমনটা ঘটেছিল। এর ফলে ‘মার্কেটর মানচিত্রে’ বিষুবরেখা থেকে দূরে, বিশেষত উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলগুলি প্রকৃত আয়তনের তুলনায় বড় দেখায়।
বিষুবরেখাবর্তী অঞ্চলগুলিকে প্রকৃত আয়তনের তুলনায় ছোট দেখায়। ২০১৮ সালে এই বিকৃতি কমানোর লক্ষ্যে বোয়ান সাভরিচ, টম প্যাটারসন এবং বার্নহার্ড জেনি মিলে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রক্ষেপণ তৈরি করেন। এই প্রক্ষেপণে মহাদেশগুলির আপেক্ষিক ক্ষেত্রফল যথাসম্ভব সঠিক ভাবে তুলে ধরা হয়।
-এমএমএস




