আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি জেলায় গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৮ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৭২ এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান ও ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন
মূলত, আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তানি ইসলামপন্থী নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সন্ত্রাসীদের সম্বোধন করতে ‘ফিতনা আল খারেজি’ এবং পাকিস্তান জুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের কথিত ভূমিকার জন্য ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।
আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘অভিযান চলাকালে দ্রুত ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সৈন্যরা কার্যকরভাবে গোপন আস্তানায় আক্রমণ করে এবং তীব্র গুলি বিনিময়ের পর ৪৮ জন সন্ত্রাসীর সবাইকে জাহান্নামে পাঠানো হয়।’
এসময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, যেগুলো উতোমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংস করেছে বলেও জানায় আইএসপিআর।
পাক সেনাবাহিনী আরও বলেছে, অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মদদপুষ্ট ও সমর্থিত সন্ত্রাসীদের মূল উৎপাটন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধান ও ক্লিয়ারেন্স অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। তারা অভিযোগ করছে, সরকার এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অন্যায়ভাবে শোষণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশে তাদের হামলার তীব্রতা ও পরিধি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে গোষ্ঠীটি। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী এবং ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রায় হামলা চালিয়ে আসছে বিএলএ।
তবে পাকিস্তান সরকার বলেছে, ভারতের সমর্থনে জঙ্গিরা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের তৎপরতা চালায়, যেখানে তারা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং হামলার পরিকল্পনা করে। যদিও কাবুলের তালেবান সরকার ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর