আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহও পাওয়া গেছে। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে ১২৭ জনকে নিয়ে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটি ২৭ দিন ধরে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে ছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও নৌকাটিতে পাওয়া মরদেহের হিসাব অনুযায়ী, এ যাত্রায় ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে নৌকাটি যাত্রা করেছিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় নৌকাটিতে ৪৪ জন জীবিত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। এ সময় নৌকার ভেতরে পাঁচটি মরদেহও দেখতে পান উদ্ধারকারীরা। তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে মরদেহগুলো নৌকা থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
গ্রান কানারিয়ার আরগুইনেগুইন শহরের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, নৌকাটিতে পাওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশু ছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই গাম্বিয়া ও মালির নাগরিক এবং পুরুষ বলে জানা গেছে। তাদের অনেকের শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা গেছে। সমুদ্রের পানি পান করার কারণেও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্পেনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গার্দিয়া সিভিল জানিয়েছে, স্প্যানিশ বেসরকারি সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসকে নৌকার গায়ে থাকা চিহ্নের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই চিহ্ন ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে মিলে গেছে। নৌকাটিতে ১২৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও একটি শিশু ছিল।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যেও একই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা আরগুইনেগুইন বন্দরে রেড ক্রসের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, একশোর বেশি যাত্রী নিয়ে তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তাদের অনেকেই মারা যান।
ইএফই জানিয়েছে, স্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় নথিভুক্ত করছিল, তখন অনেকেই এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে টেবিলের ওপর মাথা রেখে পড়ে যান।
স্পেনের সমুদ্র উদ্ধার সংস্থা সালভামেন্তো মারিতিমো জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রান কানারিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটিকে শনাক্ত করে একটি বিমান। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া সেখানে পৌঁছে নৌকাটিকে সহায়তা করে।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর এই সমুদ্রপথে এমন দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে। গত এক দশকে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথটি সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান রুট হয়ে উঠেছে।
মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের মতো দেশের উত্তরাঞ্চলে নজরদারি বাড়ায় গাম্বিয়া থেকেও এখন অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী ছোট নৌকায় করে সরাসরি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছেন।
তবে গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আটলান্টিক মহাসাগরে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার কারণে নৌকা পথ হারানো, ইঞ্জিন বিকল হওয়া কিংবা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রবল বাতাস ও সমুদ্রস্রোত।
এর আগেও একই পথে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আগস্টের শুরুতে ১৩৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর স্পেনের উদ্ধারকারীরা তাদের উদ্ধার করেন। নৌকাটিতে গাম্বিয়া, সেনেগাল, মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া ও কোত দিভোয়ারের নাগরিক ছিলেন।
গত ২২ জুলাই ১৬৫ জনকে বহনকারী আরেকটি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপে পৌঁছায়। ওই যাত্রায় এক নারী মারা যান এবং ছয় মাস বয়সী একটি শিশুসহ ১৫ জন আহত হন।
এর আগে জানুয়ারির শুরুতে গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, নৌকাটিতে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। সে হিসাবে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
সূত্র : এএফপি
এমআই