যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহা শয়তান’ এবং ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মূলত, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানের কুহেশতাক শহরে একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ ৪ জন নিহত ও ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
পোস্টে গালিবাফ বিগত সময়ে ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা- মিনাব বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স মার্কিন হামলার ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে বহু শিশু ও অ্যাথলেট প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি স্পিকার লিখেছেন, ‘মিনাব স্কুল: শিশুদের গণহত্যা করা হয়েছে। ল্যাম্পার্ড স্পোর্টস হল: শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। কুহেশতাকের বিয়ে: পরিবারের সঙ্গে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। যদি কোনো পরাশক্তি শয়তানের মতো আচরণ করে, শয়তানের মতো লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে এবং শয়তানের মতো মানুষ হত্যা করে, তবে সেটিই শয়তান।’
ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই মহা শয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত একটি ‘ছোট শয়তানকে’ (ইসরায়েল) সুরক্ষা দেয়, যেটিও একই রকম ধ্বংসাত্মক কাজ করে যাচ্ছে।”
Minab school: children massacred.
— محمدباقر قالیباف | MB Ghalibaf (@mb_ghalibaf) September 2, 2026
Lamerd sports hall: kids slaughtered.
Kouhestak wedding: children killed with families.
If a power acts like Satan, picks targets like Satan, and kills like Satan, it’s Satan.
Shields a junior Satan that does the same? It’s THE Great Satan.
প্রসঙ্গত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার এই রাজনৈতিক পরিভাষাটি ইরানে নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট শয়তান’ বা মহা শয়তান এবং ইসরায়েলকে ‘লিটল শয়তান’ বা ছোট শয়তান হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের স্পিকার সেই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করলেন।
এদিকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে দক্ষিণ ইরানে বেশকিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় একটি বাড়িতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। আহত ও নিহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর জবাবেই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে।
সূত্র: ডন, আলজাজিরা
এমএইচআর




