Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

চেনা যাচ্ছে না মুখ, টাই-গয়না-ট্যাটু দেখে মরদেহ শনাক্ত করছেন স্বজনরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর শত ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ। সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ততই ক্ষীণ হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮০৪টি বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্গগুলোতে বাড়ছে স্বজনদের ভিড়। তবে বেশিরভাগ মরদেহ মুখ দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই।

কারও স্কুলের টাই, কারও পরনের গয়না, আবার কারও শরীরের ট্যাটু দেখে স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করছেন। যেসব মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর গণকবর দেওয়া হচ্ছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। শনিবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তখন পর্যন্ত ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ ছিলেন। এ ছাড়া ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূতেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

nepal_2

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ আছেন ২ হাজার ৫০২ জন। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার জনকে।

রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বুধবারের এই বিপর্যয়ে আনুমানিক ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা মর্গে ভিড় করছেন। বেশির ভাগ মরদেহে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে অনেকের মুখ দেখে চেনার উপায় নেই। কারও স্কুলের টাই, কারও ট্যাটু, আবার কারও কানের দুল দেখে প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করতে হচ্ছে স্বজনদের।

যেসব মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো গণকবর দেওয়ার জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাসুয়ার বিপর্যস্ত এলাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলার দেবঘাট জঙ্গলে গণকবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেবঘাট জঙ্গলে শত শত কবর খোঁড়া হয়েছে।

নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেখানেই দাফন করা হবে। চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিওয়াল বলেন, ‘আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি। মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে।’

শনিবার ওই জঙ্গলে ৯৬টি মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। রবিবারও সেখানে আরও মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এমআর