সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নেপালে বন্যা: ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

৬৪৩ শিক্ষার্থী

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ৩ দিন পর কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ৬ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে নাটকীয় এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন দেশটির সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা (এপিএফ)। 

নেপালি সংবাদমাধ্যমগিুলো জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় তিমুরে গ্রামটি কাদা ও পাথরের নিচে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিয়াব্রুবেসির কাছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় এপিএফ সদস্যরা মাটির নিচ থেকে হঠাৎ একটি শিশুর ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। এ সময় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং মাটি খোড়া শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করার মুহূর্ত দেখা যায়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম- মানিশা মাগার।

নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জু খাত্রি জানান, শিশুটির মাথার ওপর একটি কাঠের কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এই কাঠের কাঠামোর কারণে তার মাথাটি সম্পূর্ণ মাটির নিচে চাপা পড়েনি, যা তাকে দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা শ্বাস নিতে এবং বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে প্রাথমিকভাবে তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর মানিশার জ্ঞান ফিরে আসে এবং তাকে চেতনা ফিরিয়ে আনতে সেদ্ধ ভাতের মাড় খাওয়ানো শুরু হয়।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না।  পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সে বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছে। 

এদিকে উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির পরিবারের সদস্যদেরও খুঁজে পান। তার বাবা-মা বন্যার সময় পানির প্রবল স্রোতে ছিটকে পড়ে আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। একই হাসপাতালে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানেই মানিশার সঙ্গে তাদের পূর্ণমিলনি হয়। 

প্রসঙ্গত, নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ইতোমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ঘটনার চার দিন পরও অন্তত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এতে প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

এমন পরিস্থিতিতে তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মানিশাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। 

সূত্র: এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর